কে জ্বলে উঠবেন আজ, সাকিব না মুস্তাফিজ?
সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান, দুজনই জাতীয় দলের সতীর্থ। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই দুই নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার এখন প্রতিপক্ষ। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএলে) মুস্তাফিজ সানরাজার্স হায়দবাদের হয়ে মাতাচ্ছেন, আর সাকিব খেলছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আজ মুস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ ও সাকিবের দল কলকাতা মুখোমুখি হচ্ছে। আসরে দুই দলের এটি দ্বিতীয় দেখা। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল প্রথম লড়াইয়ে কলকাতা সহজেই আট উইকেটে জিতেছিল।
আজকের (রোববার) ম্যাচে হায়দরাবাদের চেয়ে কলকাতার জয়টাই বেশি প্রয়োজন। কারণ শেষ চারে উঠতে হলে জিততেই হবে তাদের। তা না হলে প্লে-অফে খেলাটা কঠিনই হয়ে যাবে সাকিবের দলের।
আইপিএলে এখন পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচ খেলে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে প্লে-অফ আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছে মুস্তাফিজের দল হায়দরাবাদ। এই সাফল্যের পেছনে দারুণ ভূমিকা ছিল মুস্তাফিজেরও। প্রায় প্রতি ম্যাচেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চাপের মুখে রেখেছিলেন বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসার। ১৫ উইকেট নিয়ে আইপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারিদের তালিকায় মুস্তাফিজের নাম আছে পঞ্চম স্থানে। সর্বোচ্চ ১৭টি উইকেট নিয়েছেন মিচেল ম্যাকক্লেগান।
অন্যদিকে, আইপিএলের এবারের মৌসুমটা খুব একটা ভালো কাটছে না সাকিবের। শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি ম্যাচে ব্যাট হাতে একেবারেই সফল হতে পারেননি এ সময়ের অন্যতম সেরা এ অলরাউন্ডার। গত ৮ মে গুজরাট লায়নসের বিপক্ষে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফর্ম খরা কাটিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ছয় ইনিংস ব্যাটিং করে সংগ্রহ করেছেন ১০৭ রান। আর আট ইনিংসে বোলিং করে শিকার করেছেন মাত্র চারটি উইকেট।
তাই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়ে গেছে, আজকের ম্যাচে কে হবেন নায়ক। কে জ্বলে উঠবেন আজ। কার সাফল্যে দল জিতবে। সাকিব না মুস্তাফিজের?
আজ মুস্তাফিজদের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জেতার জন্যও হয়তো সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করতে হবে কলকাতাকে। ১৩ ম্যাচ শেষে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে এখন কলকাতা আছে চতুর্থ স্থানে। হায়দরাবাদের বিপক্ষে জিতলে প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলতে পারবে সাকিবের দল। আর হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে আরেকটি ম্যাচের ফলাফলের দিকে। সেই সঙ্গে থাকবে রানরেটের জটিল হিসাব-নিকাশ।
এর আগেরবার মুখোমুখিতে মুস্তাফিজ চার ওভার বল করে ২৯ রানের বিনিময়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেছিলেন আন্দ্রে রাসেলকে। মুস্তাফিজের সেই ইয়র্কার সামলাতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার। কিন্তু ব্যাটিং-ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে সেই ম্যাচে অবশ্য মুস্তাফিজদের মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ৮ উইকেটের হার নিয়ে।
সাকিবও সেই ম্যাচে করেছিলেন কৃপণ বোলিং। তিন ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেলেও দিয়েছিলেন মাত্র ১৮ রান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক