সিপিএলে সাকিবের প্রথম অর্ধশতকের আনন্দ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা সিপিএলে এ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো খেলছেন সাকিব আল হাসান। তিন বছর আগে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের পক্ষে বোলিংয়ে ঔজ্জ্বল্য ছড়ালেও ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। অর্ধশতক তো অনেক দূরের কথা, সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মাত্র ১২ রানের। এবার অবশ্য তৃতীয়বার ব্যাট করতে নেমেই পঞ্চাশ করার আনন্দে বিভোর বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সিপিএলে সাকিবের প্রথম ফিফটি এসেছে এমন সময়ে, যখন তাঁর দল ধুঁকছিল। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ১২৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র দুই রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল জ্যামাইকা তালাওয়াস। সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে প্রথমে আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছেন সাকিব। ১৫ বলে ২৪ রান করা রাসেলের বিদায়ে ৪৩ রানের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর সাকিবের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ক্রিস গেইল। ফিল্ডিংয়ের সময় ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পাওয়ার কারণেই এত দেরিতে মাঠে নেমেছেন জ্যামাইকার অধিনায়ক।
গেইল আর সাকিবের দুর্দান্ত জুটিই হারের শঙ্কায় পড়া জ্যামাইকাকে এনে দিয়েছে পাঁচ উইকেটের সহজ জয়। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটি গড়েছেন দুজনে। নেমেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ঝড় তোলা গেইল ২৯ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪৫ রানে। সাকিব খেলেছেন আস্থার সঙ্গে। বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের ৪৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের দৃঢ়তাভরা ইনিংসে ছিল সাতটি চার। এর আগে ২০ রানে নিয়েছিলেন এক উইকেট। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দলের জয়ে অবদান রাখা সাকিবই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

তবে এমন চমৎকার পারফরম্যান্সের পরও নিজেকে নিয়ে নির্বিকার সাকিব। খেলাশেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দলীয় প্রচেষ্টার ফসল এই জয়। বোলাররা খুব ভালো করেছে। এরপর ব্যাটসম্যানদের ওপরে দায়িত্ব ছিল দলকে জয় এনে দেওয়ার। শেষ পর্যন্ত আমরা জয় এনে দিয়েছি দলকে।’
ব্যাটিংয়ের শুরুতে প্রচণ্ড বিপদে পড়লেও ঠান্ডা মাথায় খেলে দলকে জয় এনে দিতে পেরে সাকিব খুশি, ‘ইনিংসের শুরুতেই চারটি উইকেট হারিয়ে ফেলা নিশ্চয়ই ভালো কিছু নয়। আমরা তখন ভীষণ চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা জানতাম, ক্রিজে টিকে থাকতে পারলে ব্যাটিং করা ক্রমেই সহজ হয়ে পড়বে। আমরা সেই কাজটাই করার চেষ্টা করেছি।’
গেইল আর রাসেলের প্রশংসা করতেও ভোলেননি এই সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার, ‘এবারের সিপিএলে গেইল দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তিনি প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রান করেছেন। রাসেলও খুব ভালো খেলেছে। ওর ইনিংসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। আমরা চাপে পড়ে গেলেও ওর ইনিংসটা চাপমুক্ত করেছিল আমাদের।’
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে সিপিএলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে জ্যামাইকা। সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সামনে আছে শুধু গায়ানা।

স্পোর্টস ডেস্ক