ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ধারা পাল্টে দিতে পারেন যারা
বহুল আকাঙ্খিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়াবে আজ শনিবার (১৪ অক্টোবর)। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক প্রস্তুত, প্রস্তুত দুনিয়াজোড়া কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ এটি। যেখানে কেবল ক্রিকেটটাই মূখ্য নয়। জড়িয়ে আছে ধর্ম, রাজনীতি, আত্মমর্যাদা, অহংবোধ। যে লড়াইটাকে কোনো ফাইনালের চেয়ে কম বলা যাবে না। মাঠের বাইরের সব জবাব বাইশ গজে দিতে প্রস্তুত দুই দলের বাইশ ক্রিকেটারও। এমন ম্যাচের নায়ক হতে চায় সবাই।
ক্রিকেট দলগত খেলা। সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্ধারণ হয় ম্যাচের ভাগ্য। ক্রিকেট মোমেন্টামেরও খেলা। একটি মুহূর্ত বদলে দিতে পারে গোটা ম্যাচের ধারা। দলগত খেলা হলেও নির্দিষ্ট কয়েকজনের ওপর চোখ থাকে সবসময়ই। আজকের ম্যাচেও এমন কয়েকজনের ওপর চোখ থাকবে সবার, যারা জ্বলে উঠলে বদলে যাবে ম্যাচের দৃশ্যপট।
ভারতের আছেন রোহিত শর্মা। ভারতীয় অধিনায়ক ক্রিজে থিতু হওয়া মানে প্রতিপক্ষ বোলারদের ঘাম ছোটানো নিশ্চিত। হিটম্যান ডাকনামের রোহিত এই বিশ্বকাপেই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করে হয়েছেন ভারতের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান। আজ তাই তার ওপর থাকবে বাড়তি নজর।
পাকিস্তান বরাবরই বিরাট কোহলির প্রিয় প্রতিপক্ষ। আর মঞ্চটা যদি হয় বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের, তখন কোহলি হয়ে ওঠেন আরও ভয়ানক। প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস ভাঙতে কোহলির জুড়ি মেলা ভার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবার আসরের প্রথম ম্যাচে কোহলি করেছেন ৮৫ রান। দুই রানে তিন উইকেট হারানোর পরও ভারতের জয়ের পেছনে বড় অবদান তারই।
রবীন্দ্র জাদেজা হতে পারেন ম্যাচের এক্স ফ্যাক্টর। ভারতীয় এই অলরাউন্ডার বল হাতে যেমন ভয়ংকর, ব্যাট হাতেও আগ্রাসী। ব্লু আর্মিদের অন্যতম সেরা এই অস্ত্রের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারও দারুণ সমৃদ্ধ। নতুন বল হাতে জসপ্রীত বুমরাহ তো আছেনই। সময়ের অন্যতম সেরা এই পেসারকে মোকাবিলা করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে পাকিস্তানি ব্যাটারদের জন্য।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার জায়গাটা অধিনায়ক বাবর আজম। বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচে তার ব্যাট না হাসলেও কে জানে, ভারত ম্যাচের জন্য নিজের সেরাটা জমিয়ে রেখেছেন কিনা। সময়ের সেরা ব্যাটার জ্বলে উঠলে পাকিস্তান তাতে ভর দিয়ে বহুদূর যেতে পারে, তা তো প্রমাণিতই।
বাবরের পর আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দলের প্রতি যার নিবেদন ভিন্ন মাত্রার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশাল রানের পাহাড় তাড়া করে পাকিস্তান জয়ী হয় রিজওয়ানের ব্যাটে ভর দিয়েই। ১৩১ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন, শিরায় টান লাগার পরও ছাড়েননি মাঠ। ব্যথায় কাতরেছেন, তবু দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
শাদাব খান আছেন দারুণ ছন্দে। পাকিস্তানি এই অলরাউন্ডারের কার্যকরী স্পিন আর ব্যাট হাতে সময়োপযোগী ইনিংস খেলতে পারার দক্ষতা মিলিয়ে শাদাব হতে পারেন জাদেজার পারফেক্ট জবাব।
পেস ইউনিটের নেতা শাহিন আফ্রিদি। নতুন বলে রোহিত-ইশানকে পড়তে হবে আফ্রিদির গতির মুখে। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ বর্তমানে তর্কাতীতভাবে সেরা, সেখানে নেতা আফ্রিদি। নিজের দিনে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তার।
এদের বাইরেও যে কেউ হতে পারেন ম্যাচের নায়ক। মহারণে মহামানব হওয়ার সুযোগ কেইবা হারাতে চাইবে।

স্পোর্টস ডেস্ক