শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় শীর্ষস্থান মজবুত করল বার্সেলোনা
শক্তি আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে বার্সেলোনার চেয়ে অনেক পিছিয়ে এস্পানিওল। মাঠেও দেখা গেলো সেই প্রভাব। বল দখলে একক আধিপত্য দেখালো হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। কিন্তু বারবার আটকে যাচ্ছিল বক্সের সামনে গিয়ে। এতে হোঁচট খাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাদের। তবে শেষ দুই মিনিটের নাটকীয়তায় জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে কাতালনরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে লা লিগার ম্যাচে এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে কাতালান ডার্বিতে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। লা লিগায় টানা নবম জয় পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বদলি নেমে গোল দুটি করেন দানি ওলমো ও রবার্ত লেভানদোভস্কি।
এ জয়ের পর ১৯ ম্যাচে ১৬ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪৯। এক ম্যাচ কম খেলে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচে বার্সেলোনার জয়ের নায়ক গোলদাতারা হলেও পর্দার আড়ালের আসল নায়ক গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নেমে গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শুনলেও বার্সেলোনার গোলবারের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পুরো ম্যাচে অন্তত ৩-৪টি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়ে জাল অক্ষত রাখেন তিনি।
ম্যাচে প্রায় ৬৯ শতাংশ বল পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৫টি শট নেয় বার্সেলোনা। এর মধ্যে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বিপরীতে, এস্পানিওলের ১৪ শটের সাতটি লক্ষ্যে ছিল।
খেলার ধারার বিপরীতে ম্যাচের ২০ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগটা পায় এস্পানিওল। সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন রবার্তো ফার্নান্দেস। ওয়ান-অন-ওয়ানে তার শট ঠেকান গার্সিয়া। এর আট মিনিট পর আক্রমণ শানিয়েছিল বার্সেলোনাও। তবে লামিনে ইয়ামালের শট চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।
প্রথমার্ধের আগে আরও একটি দারুণ সেভে বার্সেলোনাকে ম্যাচে রাখেন গার্সিয়া। ৩৯ মিনিটে কার্লোস রোমেরোর ক্রসে কাছ থেকে পেয়ে মিয়ার হেড জালের দিকেই যাচ্ছিল। দারুণ ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে এক হাতে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান গার্সিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠেও নেমেও গোলের খোঁজ পাচ্ছিল না বার্সেলোনা। উল্টো ম্যাচের ৬৪ মিনিটে গোল হজম করতে যাচ্ছিল তারা। কিন্তু চলতি মৌসূমে এস্পানিওল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া গার্সিয়া আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ায় সাবেক দলের সামনে।
বক্সে ঢুকে পড়েন ফার্নান্দেস। এগিয়ে আসেন গার্সিয়া। তার পাশ দিয়ে বল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এস্পানিওল স্ট্রাইকার। হাত বাড়িয়ে দারুণভাবে বল আটকে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
সাত মিনিট পর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এরিক গার্সিয়া। তার শট রুখে দেন এস্পানিওলের গোলরক্ষক। ৭৬ মিনিটে আবারও বার্সার ত্রাতা হয়ে দেখা দেন গোলরক্ষক গার্সিয়া। দূরের পোস্টে রোমেরোর নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন তিনি।
অবশেষে ৮৬ মিনিটে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন দানি ওলমো। ফের্মিন লোপেসের পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠান স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে এস্পানিওলের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন লেভানদোভস্কি। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে পায়ের টোকায় জাল কাঁপান অভিজ্ঞ পোলিশ স্ট্রাইকার।
যোগ করা সময়ে আর কোনো দলই জাল খুঁজে পায়নি। ফলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

স্পোর্টস ডেস্ক