গোল উৎসব করে ফাইনালে গেল বার্সেলোনা
আতলেটিকো বিলাওয়ের সঙ্গে বার্সেলোনার তফাতটা অনেক। লা লিগার চ্যাম্পিয়নরা শক্তি-সামর্থে এগিয়ে যোজন যোজন। মাঠের খেলায়ও ভিন্ন কিছুর দেখা মিলল না। বিলবাওয়ের বিপক্ষে এককভাবে আধিপত্য দেখাল কাতালানরা। বল দখল থেকে শুরু করে গোল উৎসব, সবই করল হান্সি ফ্লিকের দল। জায়গা করে নিলো স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিনগত রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে ৫-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া। একবার করে বল জালে জড়িয়েছেন ফেররান তরেস, ফের্মিন লোপেস ও রুনি বার্দগি।
বিলবাওয়ের বিপক্ষে বার্সেলোনা কেমন দাপট দেখিয়েছে পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়। পুরো ম্যাচে ৮০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য ১৪টি শট নিয়েছে বার্সেলোনা। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল সাতটি। বিপরীতে বিলবাওয়ের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের প্রথম দুই শটে কিছুটা হতাশ হতে হয় বার্সেলোনাকে। ১৬তম মিনিটে পেদ্রির গোলরক্ষক বরাবর নেওয়া শট আটকাতে কষ্ট হয়নি বিলবাওয়ের গোলরক্ষক উনাই সিমনের। ২০তম মিনিটে বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে সিমনের বরাবর শট করেন লোপেসও।
পরের মিনিটেই অবশ্য বার্সেলোনাকে লিড এনে দেন ফেররান তরেস। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পাস দেন বার্দগি, ঠিকমতো শট নিতে পারেননি লোপেস, বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে শটে জালে পাঠান তরেস।
৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। এবার আর কোনো ভুল করেননি লোপেস। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পাস দেন রাফিনিয়া আর প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন লোপেস।
এর চার মিনিট পরই বার্সেলোনাকে তৃতীয় গোল এনে দেন বার্দগি। ফের্মিনের পাস ধরে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শট নেন তিনি, সিমন ঠেকিয়ে দিলেও তার হাতের নিচ দিয়ে গড়িয়ে জালে জড়ায় বল।
প্রথমার্ধের আগেই ব্যবধান ৪-০ করে ফেলে বার্সেলোনা। কাতালানদের চতুর্থ গোলটি এনে দেন রাফিনিয়া। ৩৮ মিনিটে বার্দগির পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে বুলেট গতির শট নেন তিনি, কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায় বল।
এই চার গোলে রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে বার্সেলোনা। প্রথম দল হিসেবে স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে চার গোল করার কীর্তি গড়ল হান্সি ফ্লিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫২তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পান রাফিনিয়া। বক্সের ভেতর থেকে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ পায় কিছু, কিন্তু জালের দেখা পায়নি আর কেউ।

স্পোর্টস ডেস্ক