রমজানে ইংলিশ ফুটবলে থাকবে ইফতারের বিরতি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম ফুটবলারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগের মতোই বিশেষ ব্যবস্থা চালু রাখছে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল) ও ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপে। ম্যাচ চলাকালীন মুসলিম খেলোয়াড়রা যাতে সময়মতো ইফতার করতে পারেন, সেজন্য খেলা থামিয়ে সংক্ষিপ্ত বিরতি দেওয়া হবে।
চলতি সপ্তাহ থেকেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। যুক্তরাজ্যে এখন বিকেলের পর সূর্য ডোবে। তাই মূলত শনি ও রোববারের শেষ বিকেলের ম্যাচগুলোতে এই বিরতির প্রয়োজন হবে।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, এই বিরতি কোনো 'টাইম-আউট' বা কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের অধিনায়ক ও রেফারি মিলে আলোচনা করে ঠিক করবেন কখন বিরতি নেওয়া যায়। খেলা চলাকালীন হঠাৎ করে ম্যাচ থামানো হবে না। তবে গোলকিক, ফ্রি-কিক বা থ্রো-ইনের মতো স্বাভাবিক কোনো বিরতির সুযোগ এলেই রেফারি ইফতারের জন্য খেলা থামাবেন।
২০২১ সালে লেস্টার সিটি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাচে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়। ওই ম্যাচে লেস্টারের ওয়েসলি ফোফানা ও প্যালেসের শেইখু কুয়াতে খেলা থামিয়ে পানি ও এনার্জি জেল খেয়ে রোজা ভাঙেন। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে মোহাম্মদ সালাহ, উইলিয়াম সালিবা ও আমাদ দিয়ালোসহ অনেক নামী মুসলিম তারকা খেলছেন।
প্রিমিয়ার লিগের এই উদার মানসিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুসলিম ফুটবলাররা। এভারটনের সাবেক মিডফিল্ডার আবদুলায়ে দুকুরে বিবিসি স্পোর্টসকে বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে আপনি নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে চলতে পারেন। তারা কখনোই আপনার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কিছু করবে না, এটা দারুণ এক অনুভূতি।’
আবদুলায়ে দুকুরে আরও বলেন, ‘আমি প্রতিদিন রোজা রাখি, একটি দিনও বাদ দিই না। এখন এটা আমার কাছে স্বাভাবিক ও সহজ হয়ে গেছে। রমজানেও অনুশীলন একইভাবে চলে। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে গেলে কখনো কখনো অন্যদের চেয়ে দেরিতে খেতে হয়। তখন শেফ আমাদের জন্য আলাদা করে খাবার প্রস্তুত করেন, যেন বাড়ির মতোই সব ঠিক থাকে। আমরা হালাল খাবার পাই, তাই কোনো সমস্যা হয় না।’
সাবেক লিভারপুল তারকা সাদিও মানেও আগে জানিয়েছিলেন যে, রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য অনেক সময় অনুশীলনের সময়সূচিও বদলে দেয় ক্লাবগুলো। এ ছাড়া অ্যাওয়ে ম্যাচে ফুটবলারদের জন্য আলাদাভাবে ‘হালাল’ খাবারের ব্যবস্থাও করেন ক্লাবের শেফরা।

স্পোর্টস ডেস্ক