ওয়াসিম-শান্তর ঝড়ে দ্বিতীয়বার রংপুরকে হারাল রাজশাহী
ইনিংসের শুরু আর শেষের ঝড়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সকে বড় রানের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। সেই ঝড় আড়ালে পড়ে গেল মোহাম্মদ ওয়াসিম আর নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে। দুজনের আগ্রাসী কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে রংপুর। জবাব দিতে নেমে ৫ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী।
রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। দলীয় ১৩ রানের মাথায় এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান তানজিম হাসান তামিম (৭ বলে ৩) রান।
শুরুর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ান আরেক ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রংপুরের বোলারদের আফসোস বাড়িয়ে রাজশাহীতে জয়ের তীরে নিয়ে যান তারা। মুস্তাফিজুর রহমান-আকিফ জাভেদদের শাসন করেন আগ্রাসী মেজাজে।
দ্বিতীয় উইকেটে চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ ১৪২ রানের জুটি গড়েন শান্ত আর ওয়াসিম। ৪২ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফেরেন শান্ত। মুস্তাফিজের বলে তিনি যতক্ষনে ফিরেছেন ততক্ষনে রাজশাহীর জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
এরপর এসে জেমি নিশাম (২ বলে ১) দ্রুতই ফিরলেও রাজশাহীর জয় আটকে থাকেনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির কাছে চলে যান ওয়াসিম। যদিও তিনি সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ পেয়েছেন, তবে দলের জয় হয়তো সেই ক্ষত কিছুটা লাঘব করেছে।
শেষ পর্যন্ত ৫৯ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ওয়াসিম। ৭ চার আর ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। ৫ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন রায়ান বার্ল।
টস জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানান রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চোটের কারণে ছিলেন না রংপুরের ওপেনার ডেভিড মালান। প্রমোশন পেয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তাওহিদ হৃদয়। নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন তিনি।
একপ্রান্তে হৃদয়ের ঝড়ো ব্যাটিং করলেও আরেক প্রান্তে নিষ্প্রভ ছিলেন বাকিরা। অল্প রানেই ফিরে যান আরেক ওপেনার কেইল মায়ার্স (৬ বলে ৮ রান)। ধীর গতির ব্যাটিং করে ফিরে যান লিটন দাস (১৪ বলে ১১) আর ইফতেখার আহমেদ (১৫ বলে ৮)।
পাওয়ার-প্লেতে ঝড় তোলা হৃদয়ও কিছুটা মন্থর হয়ে যান পরে। তবে একপ্রান্ত আগলে রাখা এই ব্যাটার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবারও চড়াও হয়েছেন রাজশাহীর বোলারদের ওপর। বিশেষ করে শেষদিকে। তার সঙ্গে যোগ দেন খুশদিল শাহ।
এই দুজন মিলে গড়েছেন ৫১ বলে ১০৫ রানের জুটি। যেখানে ১৯তম ওভারে রিপন মন্ডলের এক ওভার থেকেই নিয়েছেন ২৮ রান। ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ২৯ বলে ৪৪ রান করে জেমি নিশামের বলে ফিরে যান খুশদিল।
খুশদিল ফিরলেও উইকেটে ছিলেন হৃদয়। তার সামনে মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগও ছিল। ৯৭ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয়ের সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ৩ রানের। এক বল বাকি থাকতে তাকে উইকেটও দেন নুরুল হাসান সোহান। তবে নিশাদের ইয়র্কার থেকে কোনো রানই নিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৬ বলে ৯৭ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স : ২০ ওভারে ১৭৮/৪ (মায়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতেখার ৮, খুশদিল ৪৪, হৃদয় ৯৭*, সোহান ১*; মেহরব ১-০-১৩-০, সাকিব ৪-০-৩৫-১, রিপন ৪-০-৫৬-১, নিশাম ৩-০-২৭-১, লামিচানে ৪-০-২১-১, সাকলাইন ৪-০-২২-০)
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স : ১৯.১ ওভারে ১৭৯/৩ (তামিম ৩, শান্ত ৭৬, নিশাম ১, ওয়াসিম ৮৭*, বার্ল ৭; নাহিদ ২.১-০-১৬-০, আলিস ৪-০-৩৭-০, আকিফ ৪-০-৪৩-২, মুস্তাফিজুর ৪-০-৩৪-১, খুশদিল ৪-০-২৯-০, ইফতেখার ১-০-১৬-০)
ফলাফল : রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৭ উইকেটে জয়ী।

স্পোর্টস ডেস্ক