জাতীয় দলের ম্যাচ শেষ করেই ‘পালালেন’ ৭ ফুটবলার
অদ্ভুত এক কারণে ২০০৮ সালের পর আর আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে (আফকন) অংশ নেয়নি ইরিত্রিয়া। দেশের বাইরে গেলেই টুর্নামেন্টের মাঝপথে পালিয়ে যান ফুটবলাররা। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন দেশটির সরকার। কিন্তু আবারও পড়তে হলো বিপাকে।
দেড় যুগ পর ২০২৭ সালের আফকনে অংশ নিতে বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছে ইরিত্রিয়া। কিন্তু চিত্র বদলায়নি, দেশের বাইরে খেলার সুযোগ পেয়েই দেশটির ৭ ফুটবলার পালিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আফ্রিকান এই দেশটি দেশের বাইরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ২০১৯ সালে। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে দুই লেগেই হেরেছিল তারা। তবে, সেই সময়ও কয়েকজন ফুটবলার পালিয়ে গিয়ে উগান্ডা আশ্রয় নিয়েছিল।
এই ঘটনার পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি ইরিত্রিয়া। ৮ বছর পর গত ২৫ মার্চ আফকনের বাছাইপর্বে এসওয়াতানিয়ার বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পায় ইরিত্রিয়া। পরে ৩১ মার্চ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় দেশটি।
দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ছিল ইরিত্রিয়ার হোম ম্যাচ। কিন্তু নিজ দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম না থাকায় এই ম্যাচটি হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। ম্যাচ শেষে আর দেশে ফেরেননি ৭ জন ফুটবলার।
রয়টার্সকে ইরিত্রিয়া জাতীয় দলের কোচ হিশাম ইয়াকান বলেছেন, ‘পলাতক ফুটবলারদের বেশিরভাগ বদলি খেলোয়াড়। আমার মনে হয় না তারা আর ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস, তারা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য উন্নত দেশে সুযোগ খুঁজবে।’
এ বিষয়ে জানতে ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েমেন গেব্রেমেসকেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে ই-মেইল করা হলে, তারাও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরিত্রিয়া ফুটবল ফেডারেশনের একটি সুত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘পালিয়ে যাওয়া ফুটলাররা গরিব। প্রথমবার তারা দলের সঙ্গে বিদেশ গিয়েছিল। তারা কাজের মাধ্যমে জীবনযাত্রায় উন্নতি আনতে চায়।’

স্পোর্টস ডেস্ক