আক্ষেপে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ
প্রথম দিনটি দারুণ ব্যাটিংয়ে নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনটি কাটল আক্ষেপে। ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করে জন্মদিন রাঙানোর সুযোগ ছিল মুশফিকুর রহিমের সামনে, পারেননি তিনি। এরপর ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ফেলে দিয়ে বাড়িয়েছে উইকেটের আক্ষেপ। বাংলাদেশের এমন আক্ষেপের ভিড়ে শক্ত ভীত দাঁড় করিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান।
আজ শনিবার (৯ মে) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৬ ওভার ব্যাট করে এক উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান করেছে পাকিস্তান। এখনো তারা পিছিয়ে আছে ২৩৪ রানে।
দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে অপরাজিত আছেন পাকিস্তানের ওপেনার আজান আওয়াইস। ১২ চারে ১৩৩ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ৭৮ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল।
দিনের দ্বিতীয় সেশনেই বাংলাদেশকে অলআউট করে দিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। সফরকারীদের দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক আর আজান আওয়াইস শুরু থেকেই ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করতে থাকেন। যদিও ইনিংসের অষ্টম ওভারেই সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ ফেলে দেন মাহমুদুল হাসান জয়।
এরপর দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশা বাড়িয়ে এগিয়ে যান পাকিস্তানের দুই ওপেনার। শতক ছাড়ানো উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তানকে শক্ত ভীত এনে দেন। দিনের তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
২২তম ওভারের শেষ বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন ইমাম। কিন্তু ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি তিনি। বল গিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে করেন ৭২ বলে ৪৫ রান।
ইমাম ফিরলেও তিন নম্বরে নামা আব্দুল্লাহ ফজলকে নিয়ে দিনের বাকি সময় পার করে দেন আজান। দ্বিতীয় উইকেটে অভিষিক্ত এই দুই ব্যাটার গড়েছেন ৭৩ রানের অপরাজিত জুটি।
এর আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অপরাজিত হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস। এদিন তাদের জুটির স্থায়ীত্ব ছিল ১১ ওভার ৪ বল। লিটন দাস ফিরলে ভাঙে ৬২ রানের জুটি। ৬৭ বলে ৩৩ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
লিটনের পর উইকেটে এসে বেশি সময় থাকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার এই অলরাউন্ডারও আব্বাসের শিকার হয়ে ফেরেন। এর আগে মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১০ রান। দারুণ শুরুর পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তাইজুল ইসলামও (২৩ বলে ১৭)।
দলীয় ৪০০ রান আর মুশফিকুরে সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরেই আশা ভঙ্গ হয়। দিনের দ্বিতীয় সেশনের তৃতীয় বলে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে আফ্রিদির করা বল ভেতরে ঢুকে মুশফিকের স্টাম্প উপড়ে দেয়। ১৭৯ বলে ৭১ রানের ইনিংস শেষ হয় তার।
এরপর বাংলাদেশের চারশ পেরোনো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ, স্বীকৃত কোনো ব্যাটারই তখন উইকেটে ছিলেন না। তবে সেই শঙ্কা মাড়িয়ে ঝড়ো ব্যাটিং করেন তাসকিন আহমেদ। ১৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ থামে ৪১৩ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪১৩/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ১৭৯/১ (ইমাম ৪৫, আজান ৮৫*, আব্দুল্লাহ ৩৭*; তাসকিন ৮-০-৪০-০, এবাদত ৮-১-৩৮-০, নাহিদ ৯-১-৪৭-০, মিরাজ ১৬-২-৩৭-১, তাইজুল ৫-০-১২-০)

স্পোর্টস ডেস্ক