সেই ‘৭-১ গোল’ নিয়ে মুখ খুললেন ব্রাজিল কোচ স্কলারি
ফুটবল দুনিয়ায় ‘৭-১’ সংখ্যাটি শুধু একটি স্কোরলাইন নয়, ব্রাজিলিয়ানদের জন্য এটি আজীবনের কান্নার নাম। ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক লজ্জাজনক হারের এক যুগ পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সেই তিক্ত স্বাদ ভুলতে পারেনি ব্রাজিলিয়ানরা। প্রায়ই কটাক্ষ শুনতে হয় প্রতিপেক্ষর।
বেলো হরিজেন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামের সেই দুঃস্বপ্ন আজও তাড়া করে বেড়ায় কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলপ্রেমীকে। ব্রাজিলিয়ানরা একে ‘মিনেইরাজো’ বিপর্যয় বলে ডাকে। এত বছর পর সেই ঐতিহাসিক হার নিয়ে এবার খোলাখুলি মুখ খুলেছেন তৎকালীন সেলেসাওদের কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি।
ব্রাজিলকে সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতানো ৭৭ বছর বয়সী এই কোচ বর্তমানে দেশটির ক্লাব গ্রেমিওর টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই নির্মম রাত এবং আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের কথা বলেছেন ‘বিগ ফিল’ খ্যাত এই কোচ।
সাক্ষাৎকারে স্কলারিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— লোকে তাঁর বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে ১-৭ গোলের হারটিকেই বেশি মনে রেখেছে বলে তার মনে হয় কি না? জবাবে স্কলারি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘২০০২ সালে জিতেছিল কারা?’ প্রতিবেদক উত্তর দেন, ‘জাতীয় দল।’ এরপর স্কলারি আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘তাহলে ২০১৪ সালে হারল কারা?’ প্রতিবেদক এবারও বলেন, ‘জাতীয় দল।’
ঠিক তখনই স্কলারি দ্বিমত পোষণ করে এক বুক কষ্ট নিয়ে বলেন, ‘না, ফেলিপাও (স্কলারির ডাকনাম) হেরেছিল!’ অর্থাৎ, পুরো হারের দায় তিনি নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন। সেই হারের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, সেদিন আমাদের কোনো পরিকল্পনা কাজে আসেনি। সবকিছু ভুল ছিল, একদম ভুল ছিল। তবে আমরা সেরা মনে করেই দল সাজিয়েছিলাম।’
স্কলারির দাবি, ২০১৪ সালের দলটি ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের মতো বাইরের চাপ থেকে মুক্ত ছিল না। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর পুরো দেশ ও দল শোকাতুর হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া দলের ভেতরে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিগত স্বার্থও সেবার বড় সমস্যা তৈরি করেছিল বলে জানান এই প্রবীণ কোচ।
স্কলারি স্বীকার করেন, তিনি আজ পর্যন্ত সেই অভিশপ্ত ম্যাচের ভিডিও পুরোটা কখনো নতুন করে দেখেননি। এমনকি সেই ম্যাচের পরের রাতে তিনি ঘুমাতে পেরেছিলেন কি না, তাও তার মনে নেই।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। চোট থাকার পরও দলে রাখা হয়েছে নেইমারকে। ২৪ বছর আগে স্কলারি নিজে এমন পরিস্থিতিতে থাকলে নেইমারকে দলে নিতেন কি না— এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল স্কলারির কাছে।
জবাবে স্কলারি বলেন, ‘আমি দলে নিতাম কি নিতাম না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কারণ নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং কার্লোর মাথার কৌশল আমার জানা নেই। তবে আমি যদি কোচ হতাম, তবে নেইমারকে কীভাবে সেরা উপায়ে খেলানো যায় এবং মাঠে কে তাকে সাহায্য করবে, সেই চুলচেরা বিশ্লেষণ অবশ্যই করতাম।’
বর্তমান ব্রাজিল দল খেলোয়াড়ি মানের দিক থেকে ২০০২ সালের স্বর্ণালী প্রজন্মের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন স্কলারি। তবে কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে ব্রাজিল এবার হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) জিতবে বলে আশা স্কলারির।
স্কলারির মতে, ‘বিশ্বকাপের আসল লড়াই শুরু হয় নকআউট পর্ব থেকে। দল সবসময় সেরা না হলেও নির্দিষ্ট দিনে যদি খেলোয়াড়দের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া আর মানসিক ভারসাম্য থাকে, তবে যেকোনো দলকে হারিয়ে শিরোপা জেতা সম্ভব।’

স্পোর্টস ডেস্ক