দুই আপক্যাপড ফুটবলার নিয়ে এক যুগ পর বিশ্বমঞ্চে দ. আফ্রিকা
দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন অপেক্ষা মূলমঞ্চে লড়াইয়ে নামার। এর আগে নিজ দলের সেনানীদের নাম ঘোষণা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হুগো ব্রোস। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ২৬ সদেস্যর দল ঘোষণা করেছেন তিনি।
ঘোষিত এই দলে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনো অভিষেক না হওয়া দুই তরুণ ডিফেন্ডার। একই সঙ্গে অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখে দলে রাখা হয়েছে ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ প্লেমেকার থেম্বা জোয়ানেকে।
কোচ হুগো ব্রোসের এই ২৬ সদস্যের দলের ১৯ জন খেলোয়াড়ই দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগে খেলেন। স্কোয়াডে খুব বেশি বড় রদবদল করেননি কোচ। মূলত যেসব খেলোয়াড়দের ওপর ভর করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা আবারও বিশ্বমঞ্চের টিকিট পেয়েছে, তাদের ওপরই শেষ পর্যন্ত আস্থা রেখেছেন তিনি।
বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে দলে না থাকলেও ডিফেন্স বা রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে দুই নতুন মুখকে দলে টেনেছেন কোচ। এদের একজন হলেন ২২ বছর বয়সী সেন্ট্রাল ব্যাক ওলওয়েথু মাখানিয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলছেন।
অন্যজন হলেন ২৫ বছর বয়সী ব্র্যাডলি ক্রস। একসময় ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের একাডেমিতে থাকা এই ফুটবলার বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় ক্লাব কাইজার চিফসের হয়ে খেলছেন।
ডিফেন্সে চোটের শঙ্কা থাকলেও দলে রাখা হয়েছে নিয়মিত লেফট-ব্যাক অব্রে মোদিবাকে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে গত রোববার মামেলোডি সানডাউনসের হয়ে ক্যাফ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি তিনি খেলতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপের আগে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের দল ঘোষণা করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। দল নির্বাচন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রোস বলেন, ‘আমি জানি আজকের দলে যেসব খেলোয়াড় জায়গা পায়নি, তারা ভীষণ হতাশ হবে। দল থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন ছিল। তবে আমি আশা করি, দেশের সাফল্যের জন্য আমি সঠিক খেলোয়াড়দেরই বেছে নিতে পেরেছি।’
দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ১৯৯৮ সালে বিশ্বমঞ্চে দলটির অভিষেক ঘটে। এরপর তারা ২০০২ সালের বিশ্বকাপে খেলে এবং সর্বশেষ ২০১০ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজন করে। তবে অতীত ইতিহাস বলছে, প্রতিবারই তারা গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড
গোলকিপার : রনওয়েন উইলিয়ামস (মামেলোডি সানডাউনস), রিকার্ডো গস (সিওয়েলেলে), সিফো চেইন (অরল্যান্ডো পাইরেটস)।
ডিফেন্ডার : খুলিসো মুদাউ, অব্রে মোদিবা, খুলুমানি এনদামানে (সবাই মামেলোডি সানডাউনস), ওলওয়েথু মাখানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র), ব্র্যাডলি ক্রস (কাইজার চিফস), থাবাং মাতুলুদি (পোলোকওয়ানে সিটি), এনকোসিনাথি সিবিসি, কামোগেলো সেবেলেবেলে (উভয়ই অরল্যান্ডো পাইরেটস), ইমে ওকোন (হ্যানোভার ৯৬, জার্মানি), সামুকেলে কাবিনি (মোল্ডে এফকে, নরওয়ে), ম্বেকেজেলি ম্বোকাজি (শিকাগো ফায়ার, যুক্তরাষ্ট্র)।
মিডফিল্ডার : তেবোহো মোকোয়েনা, জেইডেন অ্যাডামস (উভয়ই মামেলোডি সানডাউনস), থ্যালেন্তে এমবাথা (অরল্যান্ডো পাইরেটস), স্পেফেলো সিথোল (তন্ডেলা, পর্তুগাল)।
ফরোয়ার্ড : অসভিন আপোলিস, শ্বেপাং মোরেমি, এভিডেন্স মাকগোপা, রেলেবোহিলে মোফোকেনগ (সবাই অরল্যান্ডো পাইরেটস), লাইল ফস্টার (বার্নলি, ইংল্যান্ড), ইকরাাম রেইনার্স, থেম্বা জোয়ানে (উভয়ই মামেলোডি সানডাউনস), থাপেলো মাসেকো (এইএল লিমাসল, সাইপ্রাস)।

স্পোর্টস ডেস্ক