তিন দশকের যাত্রায় বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার অবিচ্ছিন্ন রাজত্ব
শাকিরা মানেই যেন বিশ্বকাপ, এ কথা নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার গাওয়া অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা (আফ্রিকার জন্য এই সময়)’ পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই গানের আবেদন আজও কমেনি।
এর আগেও বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনি মঞ্চ মাতান ‘হিপস ডোন্ট লাই’ পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তিনি যুক্ত হন ‘লা লা লা’ শিরোনামের গান দিয়ে। প্রতিটি আসরেই তার কণ্ঠ ও পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের আবহকে আরও রঙিন করে তুলেছে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। যা যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে তার সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এবারের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘দাই দাই’, যেখানে শাকিরার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়। গানটি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও শাকিরা ও বার্না বয় মঞ্চ মাতান তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে।
কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এই গায়িকা শুধু একজন সংগীতশিল্পীই নন বরং বিশ্বমঞ্চে লাতিন মিউজিককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এক সাংস্কৃতিক আইকন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বৈশ্বিক সংগীত অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করে রেখেছেন। বিশেষ করে বিশ্বকাপ মঞ্চে তার পারফরম্যান্সগুলো তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
৪৯ বছর বয়সেও অসাধারণ ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন শাকিরা। নাচ গান আর মঞ্চ উপস্থিতি সব মিলিয়ে তিনি এখনো সমানভাবে দর্শক মাতাতে সক্ষম। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মানেই শাকিরার ঝলমলে পারফরম্যান্স এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই তৈরি হয়েছে।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক এখন একপ্রকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার অংশগ্রহণ সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে। নতুন গান ও পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চ কাঁপালেন তিনি।

স্পোর্টস ডেস্ক