সুকান্তের ‘আঠার বছর বয়স’র তরুণ খেলোয়াড় আইয়ুব বোয়াদ্দি
“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ/স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ/বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।
আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়/পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়−”
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠার বয়র বয়স’ কবিতার এই পঙক্তির মতোই যেন টগবগে তারুণ্য নিয়ে আজকের বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক সম্ভাবনাময় নাম মরক্কোর আইয়ুব বোয়াদ্দি। ফ্রান্সের ক্রেইল শহরে জন্ম নেওয়া এই আঠার বছরের তরুণ ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঝমাঠে যেভাবে খেলেছেন; তা যেন বয়সকে অতিক্রম করে যাওয়া এক পরিণত খেলোয়াড়ের উপস্থাপনা। প্রতিটি পাসেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ; প্রতিটি সিদ্ধান্তেই পরিণত বুদ্ধিমত্তার প্রদর্শন। ম্যাচজুড়ে তার ভয়ডরহীন, নান্দনিক উপস্থিতি।
আইয়ুব বোয়াদ্দির শৈশব কেটেছে সাধারণ এক পরিবারে। বাবা হাসান বোয়াদ্দি ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। ডেপুটি মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবার থেকেই তিনি শিখেছেন শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পরিশ্রমের শিক্ষা; যা তাকে গড়ে তুলেছে আজকের অবস্থানে।
ছেলেবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর টান ছিল আইয়ুব বোয়াদ্দির। স্থানীয় ক্লাব এএফসি ক্রেইলে তার যাত্রা শুরু। এরপর মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন লিলের একাডেমিতে। যেখানে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আইয়ুব বোয়াদ্দির পেশাদার ফুটবলের ভিত।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে লিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় আইয়ুব বোয়াদ্দির। এরপর থেকেই ইউরোপীয় ফুটবলে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। বড় ম্যাচে তার ঠান্ডা মাথার খেলা বল নিয়ন্ত্রণ আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। পাশাপাশি তিনি পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী; গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে বোয়াদ্দি ছিলেন মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। ৯৩ শতাংশ পাস সফলতা বল দখলে দৃঢ়তা এবং চাপের মধ্যেও খেলা নিয়ন্ত্রণ করার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফর্মারে পরিণত করে। অভিজ্ঞ কাসেমিরোর বিপক্ষে তার এই লড়াই যেন নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো এখন তার দিকে নজর রাখছে। আর্সেনাল পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখসহ শীর্ষ দলগুলো তাকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে দেখছে। তবু আলোচনার কেন্দ্রে থেকেও বোয়াদ্দি এখনো এক সাধারণ শিকড়ের তরুণ। যার কাছে পরিবার, শিক্ষা আর পরিশ্রমই সবচেয়ে বড় শক্তি।

স্পোর্টস ডেস্ক