কানাডা-মরক্কো ম্যাচ দিয়ে শুরু শেষ ষোলোর লড়াই
আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার ফুটবলের দুই ভিন্ন ধারার লড়াই এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে। একদিকে সহ-আয়োজক কানাডা। যারা ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়া মরক্কো, যাদের লক্ষ্য আরও একবার শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া। দুই মহাদেশের দুই দলের এই লড়াইয়ে চাওয়া শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নয়, বরং নিজেদের সাম্প্রতিক উত্থানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।
বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টায় হিউস্টনের রিলায়ান্ট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কানাডা-মরক্কো। এই ম্যাচ দিয়ে শুরু বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই।
দুই দলই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যোগ করা সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে কানাডা। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে পরে টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছে মরক্কো।
মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। পুরো টুর্নামেন্টে তারা প্রতিপক্ষকে খুব সীমিত সুযোগ দিয়েছে। আর বড় দলের বিপক্ষেও ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ সামলেছে। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আশরাফ হাকিমি ও নুসাইর মাজরাউই। আর মাঝমাঠে সফিয়ান আমরাবাতের লড়াকু উপস্থিতি দলকে ভারসাম্য দিচ্ছে। আক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজ ও আয়ুব এল কাবির মতো খেলোয়াড়রা মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিতে সক্ষম।
অন্যদিকে কানাডার শক্তি তাদের গতি, শারীরিক ক্ষমতা এবং দ্রুত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। আলফন্সো ডেভিসের গতিময় রান, জোনাথন ডেভিডের ফিনিশিং এবং সাইল লারিনের অভিজ্ঞতা সবমিলিয়ে তারা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। জেসি মার্শের দল পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের খেলার ধরন বদলাতেও পারদর্শী, যা নকআউট ম্যাচে বড় সুবিধা হতে পারে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান মরক্কোর পক্ষেই কথা বলছে। আগের চার দেখায় কানাডা কোনো জয় পায়নি। তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে মরক্কো, আর একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও কানাডাকে হারিয়েছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
নকআউট ফুটবলে অতীত খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। একটি মুহূর্ত, একটি ভুল বা একটি অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। মরক্কো অভিজ্ঞতা ও সংগঠিত ফুটবলে এগিয়ে থাকলেও, স্বাগতিক কানাডার গতি ও আত্মবিশ্বাস ম্যাচটিকে সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই শেষ আটের টিকিটের এই লড়াইয়ে উত্তেজনার সব উপাদানই উপস্থিত।
সম্ভাব্য একাদশ
মরক্কো
ইয়াসিন বুনু, আশরাফ হাকিমি, ইসা দিয়প, শাদি রিয়াদ, নুসাইর মাজরাউই, সফিয়ান আমরাবাত, আজ্জেদিন ওউনাহি, ব্রাহিম দিয়াজ, বিলাল এল খান্নুস, আয়ুব এল কাবি, সুফিয়ান রহিমি।
কানাডা
ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার, অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন, ডেরেক কর্নেলিয়াস, মোইসে বোম্বিতো, আলফন্সো ডেভিস, স্টিফেন ইউস্তাকিও, ইসমাইল কোনে, তাজন বুকানান, জোনাথন ডেভিড, জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ, সাইল লারিন।

স্পোর্টস ডেস্ক