ভারতের কাছে হার বিশ্বকাপ কঠিন করল বাংলাদেশের
আগের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর সুখস্মৃতি নিয়ে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে জয়ের আশাই করছিলেন নিগার-নাহিদারা। কিন্তু, মাঠে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। এতে কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান করে দলটি। জবাবে ১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান তোলে ভারত।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন শেফালি ভার্মা। মারুফা আক্তারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সহজ সুযোগ নিতে পারেননি জ্যোতি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভারতীয় ওপেনারকে।
মারুফার পর সানজিদা আক্তার মেঘলার ওপরও চড়াও হন শেফালি। একের পর এক বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলেন তিনি। যদিও অন্য প্রান্তে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি স্মৃতি মান্ধানা। মারুফার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬ বলে ৮ রান করে ফিরে যান ভারতীয় ওপেনার।
তবে স্মৃতির বিদায়েও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। শেফালির আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে শেষে এক উইকেটে ৬৩ রান তুলে ফেলে ভারত। এরপর রাবেয়ার এক ওভারে বাউন্ডারি মেরে মাত্র ২৯ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
অবশেষে নাহিদা আক্তার কিছুটা স্বস্তি এনে দেন বাংলাদেশকে। তার বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরতে হয় শেফালিকে। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ বলে ৫৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এর কিছুক্ষণ পর নাহিদার শিকার হন স্বস্তিকা ভাটিয়াও। কভারের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে রাবেয়ার হাতে ধরা পড়েন তিনি। ২৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার কিছুটা সুযোগ তৈরি করেছিল মাঝের ওভারগুলোতে। রিচা ঘোষকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফেরান রাবেয়া। ১০ রান করে বিদায় নেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। জেমিমাহ রদ্রিগেজও শুরুতে জীবন পেয়েছিলেন। সহজ রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নাহিদা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৫ বলে ২৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন জেমিমাহ। রিতু মনি তাকে ফিরিয়ে দিলেও ততক্ষণে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ভারত।
শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত। ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রেনুকা সিংয়ের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন দিলারা আক্তার। ৮ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে আরও কয়েকবার বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। চারবার ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ভারতীয় ফিল্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুয়াইরিয়া ও সোবহানা ধীরে ধীরে ইনিংস গড়তে থাকেন। তাদের ব্যাটে পাওয়ার প্লে শেষে ১ উইকেটে ৪০ রান তোলে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তবে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেওয়ার সময় জুটিটি ভাঙেন নন্দিনী শর্মা। তার বলে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়ে বোলারের হাতেই ক্যাচ দেন জুয়াইরিয়া। ৩১ বলে ৫ চারসহ ৩৩ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর রান তোলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন সোবহানা মোস্তারি। কিন্তু রাধা যাদবের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অফে ধরা পড়েন তিনি। ২৬ বলে ২২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
মাঝের ওভারে দায়িত্ব তুলে নেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৩২ রান করেন তিনি। শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ১২ বলে ১০, রিতু মনি ৪ বলে ৮ এবং স্বর্ণা আক্তার ১০ বলে ১৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন।
এই হারে ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে বাংলাদেশ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ভারত। বাংলাদেশের সমান ৪ পয়েন্ট হলেও রানরেটে এগিয়ে তিনে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিগারদের শেষ ম্যাচে প্রোটিয়াদের সঙ্গে। গ্রুপ ১ থেকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

স্পোর্টস ডেস্ক