বিশ্বকাপে কীভাবে, কোন নিয়মে পেনাল্টি দেওয়া হয়?
একই সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে সহজ ও কঠিন কাজ কোনটি? কেউ বলবেন গোল করা, কারও মতে গোল বাঁচানো। ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে আছড়ে ফেলার কথাও বলবেন কেউ কেউ। এসবের কিছু নয়। ফুটবলে সহজ আবার কঠিনতম কাজ হচ্ছে ‘পেনাল্টি।’
একটি পেনাল্টিই কখনও কখনও ভাগ্য গড়ে দেয়। কাউকে বানায় হিরো, কেউ বনে যান ভিলেন। ফুটবলে সবচেয়ে চাপের মুহূর্তগুলোর একটি হলো ‘পেনাল্টি কিক।’ গোলরক্ষকের সঙ্গে একক লড়াইয়ে মাত্র ১২ গজ দূর থেকে বল জালে জড়ানোর সুযোগ পান খেলোয়াড়। এই সুযোগ পাওয়ার পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম।
সাধারণত আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড়কে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় নিজেদের ডি বক্সের ভেতরে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টি দেন। ট্রিপিং, ধাক্কা দেওয়া কিংবা হ্যান্ডবলের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পেনাল্টি দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি পর্যালোচনার মাধ্যমেও এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
দলের নির্ধারিত পেনাল্টি টেকারই সাধারণত শট নেন। এটি আগে থেকেই ঠিক করা থাকে এবং অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য গোলদাতাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পেনাল্টি স্পট গোললাইন থেকে ১২ গজ দূরে অবস্থিত। শট নেওয়ার সময় ফুটবলার গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার জন্য দৌড়ের গতি বা ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে কিক মারার মুহূর্তে একাধিকবার বল স্পর্শ করার নিয়ম নেই।
অন্যদিকে গোলরক্ষককে শট নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুই গোলপোস্টের মাঝখানে অবস্থান করতে হবে এবং অন্তত একটি পা গোললাইনের ওপর বা সমান্তরালে রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে গোলপোস্ট, ক্রসবার বা জাল স্পর্শ করা কিংবা অশোভন আচরণ করাও নিষিদ্ধ।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মোট ২৩টি পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ছয়টি কম। সেই আসরে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি পাঁচটিই সফলভাবে গোলে পরিণত করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি পেনাল্টি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এছাড়া ইংল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা একটি করে পেনাল্টি পেয়েছে এবং সবাই সফল হয়েছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পাওয়া প্রথম পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তবে জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টিতে সফল হন লাউতারো মার্তিনেজ।

স্পোর্টস ডেস্ক