মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো, প্রতিশোধ নাকি ইতিহাসের হাতছানি
চার বছর আগে একই প্রতিপক্ষের কাছে থেমে গিয়েছিল মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার আশা ভেঙেছিল আটলাস লায়ন্সদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
একদিকে প্রতিশোধের তাড়না। অন্যদিকে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য। সবমিলিয়ে বোস্টনের এই লড়াই হতে যাচ্ছে শেষ আটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ২টায় শুরু হবে ম্যাচ।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো– সবমিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় লে ব্লুরা। সেই ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও ধৈর্য ও অভিজ্ঞতায় জয় নিশ্চিত করে তারা।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। চার ম্যাচে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ওপরের দিকে রয়েছেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। মাইকেল ওলিসে, ওসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার গতি ও সৃজনশীলতা ফ্রান্সের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। বিশেষ করে অভিষেক বিশ্বকাপেই ওলিসে নিজের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দিচ্ছেন।
তবে কিছুটা দুশ্চিন্তাও রয়েছে ফ্রান্স শিবিরে। কুঁচকির চোটের কারণে শেষ ম্যাচ খেলতে পারেননি অরেলিয়েন চুয়ামেনি। তিনি পুরোপুরি সেরে না উঠলে মাঝমাঠে আবারও সুযোগ পেতে পারেন মানু কোনে। রক্ষণভাগে উইলিয়াম সালিবার ফিটনেসও নজরে রাখছেন কোচ দেশম।
অন্যদিকে, মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, তারা কেবল চমক দেখাতে আসেনি। শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ আটে উঠেছে আফ্রিকার দলটি। টানা দুই বিশ্বকাপেই নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকে নতুন এক কীর্তিও গড়েছে তারা।
তবে মরক্কোর বড় দুশ্চিন্তার নাম ইসমাইল সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করা এই মিডফিল্ডার কানাডার বিপক্ষে উরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার খেলা এখনও অনিশ্চিত। তিনি না খেলতে পারলে ব্রাহিম দিয়াজ, আশরাফ হাকিমি ও আয়ুব এল কাবির ওপর আরও বেশি দায়িত্ব পড়বে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ব্রাহিম দিয়াজ। ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের পর থেকে মরক্কোর হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে, আশরাফ হাকিমি রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও সমান কার্যকর। গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে যেকোনো ডিফেন্ডারের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন এই রাইটব্যাক।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই। দুই দলের ছয় দেখায় তিনবার জিতেছে ফরাসিরা। বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত ফ্রান্সকে হারানোর স্বাদ পায়নি মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অতীতের হিসাব খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প।
সর্বসাকুল্যে অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছুটা এগিয়ে ফ্রান্স। তবে লড়াকু মানসিকতা, সংগঠিত ফুটবল এবং নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে মরক্কো। তাই বোস্টনের এই কোয়ার্টার ফাইনালে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর নাটকীয়তার কোনো কমতি থাকার কথা নয়।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ফ্রান্স: মাইক মেনিয়ান, জুল কুন্দে, ইব্রাহিমা কোনাতে, উইলিয়াম সালিবা, থিও হার্নান্দেজ, এন'গোলো কান্তে, আদ্রিয়েন রাবিও, মাইকেল ওলিসে, ওসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা, কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মরক্কো: ইয়াসিন বুনু, আশরাফ হাকিমি, নুসাইর মাজরাউই, ইসা দিয়প, মারওয়ান সাদানে, সোফিয়ান আমরাবাত, আজেদিন উনাহি, বিলাল এল খান্নুস, ব্রাহিম দিয়াজ, সৌফিয়ান রাহিমি, আয়ুব এল কাবি।

স্পোর্টস ডেস্ক