ড্রিবলের ছন্দ বদলেছে, মেসির শ্রেষ্ঠত্ব নয়
এক সময় লিওনেল মেসির পায়ে বল মানেই ছিল আতঙ্কের নাম। মাথাভর্তি লম্বা চুল, ছোট শরীর আর অবিশ্বাস্য গতি নিয়ে তিনি যখন মাঠে ছুটতেন, তখন ডিফেন্ডারদের জন্য তাকে থামানো ছিল কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। বার্সেলোনার সেই তরুণ মেসি ড্রিবলের জাদুতে একের পর এক প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিলেন।
বলে ছোট ছোট স্পর্শ, দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ আর গোল করার অসাধারণ ক্ষমতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন মাঠের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক শক্তিগুলোর একটি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার চেহারা, বদলেছে খেলার ধরনও। কিন্তু কমেনি তার প্রতিভা। গতি কিছুটা কমলেও বেড়েছে তার অভিজ্ঞতা, দূরদৃষ্টি আর মাঠের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মেসি আবারও দেখালেন, তার জাদু এখনো আগের মতোই জীবন্ত। শুধু প্রকাশের ধরন বদলেছে। যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ছিল প্রায় দুর্ভেদ্য দুর্গ। পেনাল্টি বক্সজুড়ে ডিফেন্ডারদের ভিড়, সামনে চাপ, পেছনে সতর্ক গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। যেখানে সবাই পথ বন্ধ দেখছিল, মেসি সেখানে খুঁজে নিলেন অদৃশ্য এক রাস্তা।
নিজের তুলনামূলক দুর্বল ডান পায়ে তিনি এমন এক নিখুঁত ক্রস ভাসিয়ে দিলেন, যা ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে ঠিক লাউতারো মার্টিনেসের কপালে নেমে আসে। সেই হেডেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনালের টিকিট। মুহূর্তটি শুধু একটি গোলের সূচনা ছিল না, ছিল মেসির অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধির এক উজ্জ্বল প্রকাশ।
৩৯ বছর বয়সী মেসি প্রমাণ করেছেন। ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব শুধু গতির ওপর নির্ভর করে না। অভিজ্ঞতা, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং অসম্ভব জায়গায় সুযোগ খুঁজে নেওয়ার দক্ষতাও একজন খেলোয়াড়কে আলাদা করে তোলে। আজ তিনি ডিফেন্ডারদের হারান পায়ের গতিতে কম, বরং চিন্তার গতি আর নিখুঁত সিদ্ধান্তে বেশি।
১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রিবল করে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। চার দশক পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মেসি দেখালেন নিজের ভিন্ন এক জাদু। ম্যারাডোনা ছয়জনকে হারিয়েছিলেন বল পায়ে নিয়ে, মেসি ছয়জনকে হারালেন এক নিখুঁত ক্রসে। তার পায়ের গতি কমেছে, কিন্তু ফুটবল বোঝার ক্ষমতা আরও গভীর হয়েছে। তাই ৩৯ বছর বয়সেও মেসির প্রতিটি স্পর্শ মাঠে তৈরি করে নতুন গল্প।

স্পোর্টস ডেস্ক