১২ বছর পর নকআউটে জার্মানি, ইতিহাস বদলাতে চায় প্যারাগুয়ে
২০১৪ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ১২ বছর কেটে গেছে। এই সময়ে টানা দুটি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। অবশেষে সেই হতাশা কাটিয়ে চলতি বিশ্বকাপে আবারও নকআউট পর্বে ফিরেছে তারা।
বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় বোস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে জুলিয়ান নাগেলসমানের দলের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের বিচারে এগিয়ে জার্মানি। তবে নকআউটের মঞ্চে চমক দেখানোর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামবে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরাও।
গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষ দল হিসেবেই নকআউটে উঠেছে জার্মানি। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ডেনিজ উনদাভের অনুপ্রেরণায় ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হারলেও নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে কোনো সমস্যা হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের মতো এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়নি জার্মানদের।
গ্রুপ পর্বে জার্মানির আক্রমণভাগ ছিল বৈচিত্র্যময়। তাদের ১০ গোল এসেছে সাতজন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। এক আসরে সর্বোচ্চ আটজন ভিন্ন গোলদাতার রেকর্ড রয়েছে জার্মানির, যা তারা গড়েছিল ১৯৫৪, ২০০২, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে। এবার সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ রয়েছে নাগেলসমানের দলের সামনে।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ৩৮ বছর ৩৪১ দিন বয়সে জুলিয়ান নাগেলসমান বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা ইতিহাসের অন্যতম কমবয়সী কোচ হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ম্যানুয়েল নয়্যার একাদশে থাকলে এটি হবে তার ২৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি লোথার ম্যাথাউস ও মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ শুরুর রেকর্ড গড়বেন।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুটা সুখকর ছিল না। সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর অনেকেই তাদের সম্ভাবনা শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। মিগেল আলমিরনের লাল কার্ড সত্ত্বেও তুরস্ককে ১-০ গোলে হারায় তারা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে।
প্যারাগুয়ের আক্রমণের মূল ভরসা হুলিও এনসিসো। গ্রুপপর্বে দলের দুটি গোলেই সহায়তা করেছেন তিনি। সুযোগ তৈরি, ওপেন প্লে থেকে সুযোগ সৃষ্টি, বড় সুযোগ তৈরি এবং প্রত্যাশিত অ্যাসিস্ট সব বিভাগেই তিনি দলের সেরা। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অর্ধে সর্বোচ্চ উচ্চ-তীব্রতার প্রেসও করেছেন এই তরুণ উইঙ্গার।
তবে ইতিহাস প্যারাগুয়ের পক্ষে কথা বলছে না। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তারা পাঁচটি ম্যাচ খেললেও একটিতেও গোল করতে পারেনি। যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ গোলশূন্য থাকার রেকর্ড। পাঁচ নকআউট ম্যাচের মধ্যে মাত্র একবারই তারা জিতেছিল। ২০১০ সালে জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ নকআউটের চার ম্যাচেই হেরেছে প্যারাগুয়ে এবং প্রতিটি ম্যাচেই গোলশূন্য থেকেছে।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও জার্মানির পক্ষেই। এখন পর্যন্ত দুইবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। ২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অলিভার নয়ভিলের শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল জার্মানি। সেই আসরে তারা ফাইনালে উঠলেও ব্রাজিলের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। আর ২০১৩ সালে দুই দলের প্রীতি ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল।
বোস্টনের এই ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জার্মানি চাইবে ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট যাত্রাকে দীর্ঘ করতে এবং নিজেদের হারানো আধিপত্য ফিরিয়ে আনার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে চাইবে নকআউটে নিজেদের প্রথম গোলটি করার পাশাপাশি ইতিহাস বদলে শক্তিশালী জার্মানিকে বিদায় করে বড় চমক উপহার দিতে।
সম্ভাব্য একাদশ
জার্মানি : ম্যানুয়েল নয়্যার, জশুয়া কিমিখ, জোনাথন তাহ, আন্তোনিও রুডিগার, ডেভিড রাউম, আলেকসান্দার পাভলোভিচ, লিয়ন গোরেৎসকা, লেরয় সানে, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, কাই হাভার্টজ।
প্যারাগুয়ে : রবার্তো ফার্নান্দেজ, হুয়ান হোসে কাসেরেস, ফাবিয়ান বালবুয়েনা, ওমার আলদেরেতে, জুনিয়র আলোনসো, আন্দ্রেস কুবাস, দিয়েগো গোমেজ, মিগেল আলমিরন, হুলিও এনসিসো, রামন সোসা, আন্তোনিও সানাব্রিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক