বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন পারেদেসের বোন
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে ১-০ গোলে হারের হতাশা কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস নন। বরং তার বোন বারবারা পারেদেস। ম্যাচ পরবর্তী এক মন্তব্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে ফাইনালের শেষ মুহূর্তের সংঘর্ষের ঘটনায় পারেদেসসহ আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
পরাজয়ের পর বারবারা পারেদেস প্রথমে বলেন, ‘এত দূর পর্যন্ত পৌঁছানো এবং পথে ইংল্যান্ডকে হারানোই আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।’ তবে এরপর তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা চতুর্থ তারকাটি জিততে পারিনি, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আমাদেরই।’ এই মন্তব্যই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। পাশাপাশি বারবারার সঙ্গে পারেদেসের চেহারার মিল নিয়েও অসংখ্য মিম ও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অন্যদিকে, মাঠের ঘটনাতেও চাপে রয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফাইনালের শেষ দিকে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন তিনি। আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক দৈনিক ওলে জানিয়েছে, পাঁজরের হাড়ে চোট নিয়েই ফাইনাল খেলেছেন পারেদেস। ফলে চোট ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কারণে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে কোপা সুদামেরিকানার পরবর্তী ম্যাচে তার খেলা অনিশ্চিত।
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের খেলোয়াড়রা শিরোপা উদযাপন করতে মাঠে নামলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার জেরে লাল কার্ড দেখেন পারেদেস।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির ডিসিপ্লিনারি কমিটি রেফারির প্রতিবেদন, ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো 'রাতোন' আয়ালার বিরুদ্ধেও স্পেনের দানি ওলমোকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ফিফার তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পারেদেসসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। ফলে ফাইনালের বাঁশি বাজার পর শুরু হওয়া বিতর্ক এখন মাঠ ছাড়িয়ে তদন্তের টেবিলে গড়িয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক