ফিরলেন মিরাজও, লজ্জার রেকর্ডের শঙ্কায় বাংলাদেশ
টপঅর্ডার তেকে মিডল অর্ডার-- একের পর এক হতাশ করে ফিরছিলেন ব্যাটাররা। রীতিমতো যেন দুঃস্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। শঙ্কা চেপে বসেছিল টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার। ছোটখাটো দুটি জুটি গড়ে সেটি সামাল দিয়েছিলে মেহেদী হাসান মিরাজ। পার করেছিলেন প্রথম সেশন। এরপর তিনিও আর পারলেন না।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৬ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৮ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ৯ বলে শূন্য রান করে অপরাজিত আছেন তাইজুল আর ১ বলে শূন্য রানে তাসকিন আহমেদ।
বাংলাদেশ যখন প্রথম সেশনেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল তখন মুশফিকুর রহিমের পর হাসান মাহমুদের সঙ্গে জুটি গড়েছিলেন মিরাজ। বিশেষ করে হাসানকে কাটিয়ে দিয়েছিলেন প্রথম সেশনের বাকিটা সময়। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে ফিরে এবার তিনিও ফিরলেন হতাশ করে। এই সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই দিলেন মিরাজ। পিরেছেন ৫১ বলে ১১ রান করে। এতে ভাঙে সপ্তম উইকেটে ৫৫ বলে ১৫ রানের জুটি।
এরপর আর বেশি সময় টিকতে পারেননি হাসানও। পরের ওভারেই জস হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৬ বলে ১০ রান করে ফিরেছেন হাসান।
হাসান ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৮ রান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান ৪৩। সেই লজ্জার রেকর্ড ভাঙারও শঙ্কায় পড়েছে বাংলাদেশ।
চরম ব্যাটিং ধস বাংলাদেশের, পঞ্চাশের আগেই গুঁটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
প্রথম ম্যাচে কি সাবলীল ব্যাটিং করল বাংলাদেশ। কিন্তু এক ম্যাচ পরই বদলে গেল সেই চিত্র। অবস্থাটা এমন, যেন বাংলাদেশ ব্যাটিংই করতে পারে না। এক মিচেল স্টার্ককেরই কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ১৫ ওভারে ২১ রান তুলতেই হারিয়েছে ছয় ব্যাটারকে। এখন পঞ্চাশের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে যেন রীতিমতো চোখে সরষে ফুল দেখেছে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নিতে পারেনি টপঅর্ডারের কোনো ব্যাটার। আগের ম্যাচে যেই স্টার্ককে উইকেট না পেয়ে হতাশায় পুড়েছেন, আজ প্রথম সাত ওভারেই তিনি ধরেছেন পাঁচ শিকার। তুলে নিয়েছেন ফাইফার।
ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্টার্কের বলে ওপেনার সাদমান ইসলাম ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিনের হাতে। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের স্থায়ীত্ব হয়েছে ২ বল। তিনিও রানের খাতা খুলতে পারেননি। স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়েছেন বেউ ওয়েবস্টারকে।
একই পথের পথিক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটে তিনিও এক বলের বেশি সময় থাকতে পারেননি। ৫ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি লিটন দাসও। এই দুই ব্যাটারই স্টার্কের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে রানের দেখা পেয়েছেন কেবল মুমিনুল হক। ১৬ বলে ৫ রান করে ধরা পড়েছেন গ্রিনের হাতে।
এমন ব্যাটিং ধসের বিপরীতে শেষ আশা হয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ। ধংস্তুপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন তারা। সেই চেষ্টাও সফল হলো না। ষষ্ঠ উইকেটে ৫৩ বলে ৯ রানের জুটি ভেঙেছে প্যাট কামিন্সের বলে মুশফিক বোল্ড হয়ে ফিরলে। ৪২ বল থেকে ৫ রান এসেছে মুশির ব্যাট থেকে।
সপ্তম উইকেটে জুটি বেধেছেন মিরাজ আর হাসান মাহমুদ।

স্পোর্টস ডেস্ক