ইয়ামাল-রাফিনিয়ার জাদুতে বড় জয় বার্সার
উড়তে থাকা বার্সেলোনা এবার ম্যাচের শুরুতেই হজম করে বসলো গোল। এরপরই যেন জয়ের ক্ষুধা আরও পেয়ে বসল তাদের। প্রতিপক্ষের রক্ষণে একের পর এক হানা দিলেন লামিনে ইয়ামাল আর রাফিনিয়া। এই দুই তারকার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে জয় দিয়েই ম্যাচ শেষ করল কাতালানরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনগত রাতে লা লিগার ম্যাচে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূ-তে রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন ইয়ামাল আর রাফিনিয়া। অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতি।
এ নিয়ে লিগে তিন ম্যাচের সবগুলোতেই জয় তুলে নিল বার্সেলোনা। ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে শীর্ষে আছে তারা। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় টেবিলের দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমিয়ে তুলে ম্যাচ। এর মধ্যে ম্যাচের ১২তম মিনিটে ক্যাম্প ন্যূ-কে স্তব্ধ করে এগিয়ে যায় ভাইয়েকানো। আলভারো গার্সিয়ার বাড়ানো পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের চমৎকার শটে ওপরের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন সার্জিও কামেলো।
তবে সফরকারীদের সেই উদযাপন বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৭ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে জাভি এস্পার্তের পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে বাম পায়ের নিখুঁত নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বার্সার এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এর ২ মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। ম্যাচের ২১তম মিনিটে মার্ক বের্নালের বাড়িয়ে দেওয়া বল বক্সের ডান প্রান্তে পেয়ে যান ইয়ামাল। বাঁ পায়ের অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটে পোস্টের ওপরের ডান কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে মার্ক বের্নালের জোড়ালো শট কোনোমতে রক্ষা করেন ভায়েকানো গোলরক্ষক দানি কার্দেনাস। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জুলস কুন্দে গোল করলেও বিল্ড-আপে অফসাইড থাকায় ভিএআর দেখে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি।
বিরতিতে থেকে ফিরে ঘুরে দাঁড়াবে তো কি উল্টো আত্মঘাতি গোল করে বসে ভায়োকানো। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে বার্সেলোনা আক্রমণ সামলাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন রায়ো ভায়েকানোর ডিফেন্ডার ফ্লোরিয়ান লেজুন।
এরপরই কামেলোর গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ভায়েকানো। ৫৯তম মিনিটে উনাই লোপেজের মাপা কর্নার ক্রসে একদম কাছে দাঁড়িয়ে নিখুঁত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূরণ করেন সার্জিও কামেলো। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-২।
রায়ো ভায়েকানো সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ৭১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে তাদের সেই চেষ্টা নসাৎ করে দেয় বার্সা। বদলি হিসেবে নামা অ্যান্থনি গর্ডনের দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে বক্সের বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে নিজের জোড়া গোল পূরণ করেন রাফিনিয়া।
শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালায় ভায়োকানো। তবে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন হোয়ান গার্সিয়া। ৮২তম মিনিটে র্যান্ডি এনতেকা এবং ৯২তম মিনিটে আলেমাওর দুটি বিপজ্জনক শট ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করে বার্সেলোনার লিড ধরে রাখেন গোলরক্ষক গার্সিয়া।
এরপর ৯০তম মিনিটে ভায়োকানোর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ইয়ামাল। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ৯০তম মিনিটে স্বাগতিকদের বড় জয় নিশ্চিত করেন ইয়ামাল। করিম আদিয়েমির বাড়ানো পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার দর্শনীয় শটে বল জালে জড়ান তিনি।

স্পোর্টস ডেস্ক