২০১৮ সালের মতো চমক দেখানোর লক্ষ্য জামালের
প্রথমবার ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আসিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। তিন দলই বাংলাদেশের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে। তাই গ্রুপ পর্বের পথ যে, অতটা সোজা হবে না, তা ভালো করেই জানা আছে বাংলাদেশ কাপ্তান জামাল ভূঁইয়ার।
তবে, লড়াই কঠিন হলেও ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে আশাবাদী এবং বরাবরই আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ফুটবলের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা জামাল ভূঁইয়া। তিনি জানালেন, শুধু অংশগ্রহণ নয়, জয় ছিনিয়ে আনতেই ইন্দোনেশিয়া যাবে বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শেষ দিনের অনুশীলনের ফাঁকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসিয়ান কাপ নিয়ে নিজের ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জামাল। কোচ টমাস ডুলি র্যাঙ্কিং ও বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে বড় প্রত্যাশার কথা না বললেও অধিনায়কের কণ্ঠে ঝরেছে আত্মবিশ্বাস। পরের রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই ইন্দোনেশিয়া যেতে চান তিনি।
আসিয়ান কাপ নিয়ে দেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক। সেসব নিয়ে জামাল বলেন, ‘আসলে মানুষের তো অনেক বেশি প্রত্যাশা আছে আমাদের নিয়ে। সত্যি বলতে, অবশ্যই সবাই জিততে চায়। কিন্তু আমি মনে করি, কোচ বেশি প্রত্যাশা না করার কথা বলেছেন র্যাঙ্কিং দেখে, এই গ্রুপে আমরা সবচেয়ে নিচের র্যাঙ্কিংয়ের দল। হয়তো একারণেই এরকম বলেছেন, এটা আসলে আমি বলতে পারি না (ঠিক কী কারণে বলেছেন), কিন্তু আমি মনে করি, র্যাঙ্কিংয়ের কারণে তিনি এমনটা বলেছেন।’
বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম, সিঙ্গাপুর ১৪৮তম আর বাংলাদেশ ১৮১তম। তাই পরের ধাপে ওঠার লড়াই যে সহজ হবে না, সেটি মানছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। তবে কঠিন এই পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি সামনে আনছেন ২০১৮ এশিয়ান গেমসের স্মৃতি। সেবার প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল বাংলাদেশ।
সেই সম্মৃতি স্মরণ করে জামাল বলেন, ‘আমরা জানি, কাজটা কঠিন হবে। ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়া দুই দল অনেক শক্তিশালী। কিন্তু ২০১৮-এ আমরা যখন ইন্দোনেশিয়ায় ছিলাম (এশিয়ান গেমস খেলতে), আমার মনে হয়, সেবার আমাদের গ্রুপে উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড আর কাতার ছিল। তো ওই সময় কেউ ভাবেনি আমরা কোয়ালিফাই করবো। কিন্তু আমরা কোয়ালিফাই করেছিলাম। শেষ ষোলোতে গিয়েছিলাম। ওই সময় তো কেউ ভাবেনি আমরা কোয়ালিফাই করব, তো এবারও সেই একই ঘটনা ঘটতে পারে।’
২০১৮ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল উজবেকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলের হার দিয়ে। এরপর থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ ম্যাচে কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।
সেই ম্যাচে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন জামাল নিজেই। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অবশ্য পরের ধাপে উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। সেই স্মৃতিই এবার কঠিন গ্রুপে ভালো কিছু করার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে অধিনায়ককে।
নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, শুধুমাত্র অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, লক্ষ্য জয় ছিনিয়ে আনা। জামাল বলেন, ‘অবশ্যই আমরা কোয়ালিফাই করতে চাই। আপনাকে তো প্রত্যাশা করতে হবে। একটা টুর্নামেন্টে আপনি এই মনোভাব নিয়ে যেতে পারেন না যে, আমরা এখানে স্রেফ অংশ নেওয়ার জন্য এসেছি, না এরকম না। সবার কাছে প্রত্যাশা আছে, আমার কাছেও প্রত্যাশা আছে এবং আমি মনে করি, দলে যারা আছে, তাদের সবার আকাঙ্ক্ষা আছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার।’
আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রিমিয়ার ডিভিশনের গ্রুপ পর্বের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আজ শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল।

স্পোর্টস ডেস্ক