অবসরের পরও স্বস্তি নেই স্টোকসের
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ক্রিকেটারদের বাড়তি আয়ের অন্যতম মাধ্যম ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ। তাই অনেক ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা চালিয়ে যান। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার বেন স্টোকসও সেই পথেই হাঁটতে চান। তবে অবসরের পরও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।
ক্রিকেটকে বিদায় বলার পরও বেন স্টোকসের সামনে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার আগ্রহ থাকলেও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কঠোর নিয়মের কারণে ২০২৭ সালে তার সেই সুযোগ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট চলাকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ইংল্যান্ডের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক স্টোকস। এরপর তিনি নিজের কাউন্টি দল ডারহামের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর নিজের খেলার সূচি নির্ধারণে স্টোকসের স্বাধীনতা এখন অনেকটাই বেড়েছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন লাভজনক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগও তৈরি হয়েছে তার সামনে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের আসরকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) ও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন স্টোকস। তবে ডারহামের নিবন্ধিত খেলোয়াড় হিসেবে বিদেশি কোনো লিগে খেলতে হলে ইসিবির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হবে। আর সেই ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাপারে আপাতত ইতিবাচক অবস্থানে নেই ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড।
স্টোকসের সঙ্গে ইসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদও চলতি সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এরপরও এনওসি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা থাকছে। কারণ, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে বিদেশি কোনো টুর্নামেন্টের সময় মিলে গেলে বোর্ড সাধারণত কঠোর অবস্থান নেয়।
আইপিএলের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও অন্য বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিষয়ে ইসিবির নীতিতে কড়াকড়ি রয়েছে। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় চুক্তিতে না থাকা কোনো খেলোয়াড়ও যদি ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিবন্ধিত থাকেন, তার বিদেশি লিগে খেলার এনওসি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা ইসিবির রয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে হালনাগাদ করা নীতিমালায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো বিদেশি টুর্নামেন্টের সূচি ইংল্যান্ডের ঘরোয়া মৌসুমের সঙ্গে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে সাংঘর্ষিক হলে, কিংবা কোনো খেলোয়াড়কে এনওসি দিলে ইসিবির নিজস্ব প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বোর্ড এনওসি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।’
স্টোকসের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছে তার দল ডারহামও। তবে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে ওঠার পর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। স্টোকসও আপাতত সেই লক্ষ্যেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
২০২৭ সালের জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা মেজর লিগ ক্রিকেটের পরবর্তী আসর। সেখানে খেলতে আগ্রহী স্টোকস। কিন্তু ইসিবির বর্তমান নিয়ম বহাল থাকলে তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। এর আগে ইংলিশ ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলার এনওসি প্রত্যাখ্যান করার ঘটনাও ঘটেছে।
ইসিবির নিয়মের মধ্যে থেকেই স্টোকসকে বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ করে দিতে ডারহাম বিকল্প পথ নিয়েও ভাবছে। ক্লাবটি তাকে একাধিক স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এমন ব্যবস্থা হলে এমএলসির সময় স্টোকস ডারহামের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আবদ্ধ না থেকে ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে খেলতে পারবেন।
ইসিবির নিয়মে ন্যূনতম ২১ দিনের চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে স্টোকসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরেকটি জটিলতা তৈরি হয়েছে আইপিএলকে ঘিরে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্য অনুযায়ী, আইপিএলের নতুন নিয়মে আগে টুর্নামেন্টে খেলা কোনো বিদেশি ক্রিকেটার নির্দিষ্ট তিন বছর পরপর অনুষ্ঠিত মেগা নিলামে নিজের নাম নিবন্ধন না করলে পরবর্তী দুটি মিনি নিলামেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
ইংল্যান্ড দলের ব্যস্ত সূচির কারণে ২০২৫ সালের আইপিএল মেগা নিলামে নিজের নাম দেননি স্টোকস। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগে তার আইপিএলে ফেরার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে আগামী বছরের পিএসএল তার জন্য তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

স্পোর্টস ডেস্ক