মেসিকে মিস করবেন স্কালোনি, বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে যা বললেন
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন মনে দাগ কাটছে আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থকদের। বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বললেন, তিনি মেসিকে মিস করবেন।
মেসির সেই বিদায়ী ম্যাচের ৯০ মিনিট দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এখন ভক্তরা। আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি কাগজে-কলমে প্রীতি ম্যাচ হলেও আর্জেন্টাইন ও বিশ্বজুড়ে মেসিভক্তদের কাছে এটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে এক বিষাদের দিন। কারণ এই ম্যাচের পর থেকেই জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না মেসিকে।
মেসির সবচেয়ে কাছ থেকে কাজ করা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্যও মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে আবেগের। মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, মেসি মাঠে যে ধরনের জাদু দেখান, তা অন্য কোনো ফুটবলারের মধ্যে কখনো দেখেননি তিনি। তাই মেসির সেই অসাধারণ মুহূর্তগুলো আর দেখতে না পাওয়ার অনুভূতিটাই সবচেয়ে বেশি মিস করবেন স্কালোনি।
স্কালোনির কথায়, ‘মাঠে মেসি যা করে, তা আমি অন্য কারও মধ্যে দেখিনি। এই অনুভূতিটা আমি মিস করব। তিনি বলেন, মেসির বিদায়ী ম্যাচের জন্য এমনকি পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের টিকিটও বিক্রি করা সম্ভব ছিল।’
মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে যে সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছেন, সেটিও বুঝতে পারছেন স্কালোনি। তার মতে, মেসিকে নিয়ে বলার মতো প্রায় সব কথাই বলা হয়ে গেছে। এখন বরং তার শেষ ম্যাচটুকু উপভোগ করার সময়। আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবার মাঠে নামতে এরই মধ্যে জন্মভূমিতে ফিরেছেন মেসি। বুয়েনস এইরেসে বেনিন ম্যাচের আগে সতীর্থদের সঙ্গে শেষবারের মতো অনুশীলনেও নামবেন তিনি।
স্কালোনি বলেন, ‘সে চলে গেলে আমরা যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, এখন তো সেটা সত্যিই বাস্তব হয়ে যাবে। বুঝতে পারছি, সবাই কতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। মনুমেন্তালে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি সবার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার এই বিশেষ দিনের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। সে এমন এক শূন্যতা রেখে যাচ্ছে, যা কখনোই পূরণের নয়।
এই অপূরণীয় শূন্যতার আগে অবশ্য বড় জয় দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে আর্জেন্টিনা। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয় মেসি-পরবর্তী সময়েও দলটির সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
তবে ম্যাচটির আগে বুরকিনা ফাসোকে বেশ কিছু জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মরক্কোয় ফ্লাইট বাতিলসহ নানা সমস্যার কারণে তারা মূল জাতীয় দলের পুরো স্কোয়াড নিয়ে আর্জেন্টিনায় আসতে পারেনি। মূল জাতীয় দলের মাত্র একজন খেলোয়াড় ছিলেন, বাকিদের বড় অংশই ছিলেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ম্যাচটি খেলতে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্কালোনি।
স্কালোনি বলেন, আমরা বুরকিনা ফাসো এবং যারা খেলতে এসেছে, তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের এই প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তারা ফুটবলের মর্যাদা রক্ষা করেছে।
বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সাত গোলের কারণটাও স্কালোনির পরের কথায় কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখিয়েই পুরো ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা।
স্কালোনির ভাষায়, ‘ম্যাচটিকে আমরা ফাইনালের মতো করেই খেলার চেষ্টা করেছি, যাতে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়। তারা যে এসেছে, সে জন্য আমরা ভীষণ কৃতজ্ঞ। চাইলে তারা নাও আসতে পারত, তখন ম্যাচটি বাতিল হয়ে যেত। এতটা পথ পাড়ি দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো এবং এরপর ম্যাচ খেলা, কোনোটিই সহজ ছিল না।’
ম্যাচে আর্জেন্টিনার পুরো মূল একাদশকে বদলে দেওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্কালোনি। তার বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী, ফিফাকে যদি আগে থেকেই জানানো হয় এবং প্রতিপক্ষ দল রাজি থাকে, তাহলে ১১টি পরিবর্তন করা সম্ভব। এরপরও ম্যাচটি ‘এ’ মর্যাদার আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবেই গণ্য হবে।
ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম দুই ম্যাচেই ১১ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর এবার বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে এসেছে ৭-০ গোলের জয়।
এখন অপেক্ষা বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটির। তবে সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফল বা পারফরম্যান্সের চেয়েও সবার নজর থাকার কথা একজনের দিকেই। তিনি লিওনেল মেসি। কারণ আকাশি-সাদা জার্সিতে এরপর আর তাকে দেখা যাবে না।

স্পোর্টস ডেস্ক