আউট করেও উইকেট পাননি হাসান, সেই অটলকে ফেরালেন হাসানই
আউটের জোরালো আবেদন, আম্পায়ারের নীরবতা, এরপর রিভিউ না নেওয়ার আফসোস– সব মিলিয়ে শুরুতেই বড় এক সুযোগ হাতছাড়া করতে বসেছিল বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়েছিল উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা জোরালো আবেদন জানালেও তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। অথচ রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগার স্পষ্ট প্রমাণ ছিল আলট্রাএজে। তবে সেই ভুলের মাশুল বেশিক্ষণ দিতে হয়নি বাংলাদেশকে। পরের ওভারেই সেই সেদিকউল্লাহ অটলকে ফিরিয়ে প্রতিশোধ নেন হাসান মাহমুদ।
ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টা করছিলেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। নিজের বোলিংয়ে ধার ও নিয়ন্ত্রণের প্রমাণও দিচ্ছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় সেদিকউল্লাহ অটলকে দারুণ এক ডেলিভারিতে পরাস্ত করেন এই ডানহাতি পেসার।
হাসানের করা বলটি ব্যাটের পাশ ঘেঁষে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই আউটের জোরালো আবেদন জানান হাসানসহ বাংলাদেশের অন্য ফিল্ডাররা। তবে আম্পায়ারের কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বলটি ব্যাটে লেগেছে কিনা, তা নিয়ে মুহূর্তেই তৈরি হয় সংশয়।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল রিভিউ নেওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাননি অধিনায়ক। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে আলট্রাএজে স্পষ্ট স্পাইক দেখা গেছে। অর্থাৎ, বল ব্যাটে লেগেছিল বলেই রিপ্লেতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ফলে রিভিউ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের জন্য বড় আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যাট ও প্যাডের কাছাকাছি অবস্থান এবং বলের গতিপথ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণেই হয়তো রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে সেই মুহূর্তে উইকেট পাওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগাতে না পারায় হতাশা বাড়ে সমর্থকদের।
কিন্তু হাসান মাহমুদ যেন ভুলটি বেশিক্ষণ মনে রাখলেন না। নিজের পরের ওভারেই আবারও সেদিকউল্লাহ আতালকে আক্রমণ করেন তিনি। এবার আর কোনো আবেদন কিংবা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হয়নি বাংলাদেশকে। দারুণ এক ডেলিভারিতেই ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান হাসান।
ম্যাচের ১১তম ওভারের প্রথম বলটি হালকা ইনসুইং করিয়ে ফুল লেংথে ফেলেন হাসান। ড্রাইভ করতে গিয়ে বলের লাইন ও মুভমেন্ট সামলাতে পারেননি আতাল। ব্যাটের সংযোগে বল চলে যায় স্লিপ অঞ্চলে। সেখানে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ হাসান তামিম ক্যাচটি নিতে কোনো ভুল করেননি। সহজেই বলটি তালুবন্দী করে বাংলাদেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত উইকেট নিশ্চিত করেন তিনি।
এর মধ্য দিয়ে আগের ওভারে বেঁচে যাওয়া আতালের ইনিংসের ইতি ঘটে। প্রথমবারের সুযোগ হাতছাড়া হলেও নিজের পরের ওভারেই লক্ষ্য পূরণ করেন হাসান মাহমুদ। একই ব্যাটারকে পরপর দুই ওভারে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত উইকেট তুলে নেওয়ায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণেও আসে স্বস্তি।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দিনের প্রথম সেশন শেষ হয়েছে। আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১৪ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান। শুরুতে আতালকে হারানোর হাতছানি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ।

স্পোর্টস ডেস্ক