অব্যবস্থাপনায় সমর্থকদের ক্ষোভে মাঠে গড়াল না রায়ো ভায়েকানোর ম্যাচ
জরাজীর্ণ স্টেডিয়াম, অব্যবস্থাপনা আর ক্লাব পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভায়েকানোর সঙ্গে এসব যেন পুরোনো গল্প। গত মৌসুমেও মাঠ ও অনুশীলন-সুবিধা নিয়ে সরব হয়েছিলেন খেলোয়াড়েরা, আর টিকিট কিনতে ভোগান্তি পোহাতে হয় সমর্থকদেরও। এবার সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে ক্লাবটির সংকট।
সমর্থকদের বিক্ষোভে পরিত্যক্ত রায়ো ভায়েকানো ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ম্যাচ। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবটির সভাপতি ও মালিক রাউল মার্টিন প্রেসার বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এমন প্রতিবাদে নামেন সমর্থকেরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) এস্তাদিও দে ভায়েকাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১৩তম মিনিটে গ্যালারি থেকে কাগজের উড়োজাহাজ ও ছোট রাবারের বল মাঠে ছুড়ে মারতে থাকেন তারা। এক দফায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হলেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন রেফারি। তখন দুই দলই ছিল গোলশূন্য অবস্থায়।
সমর্থকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে ক্লাবটির অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘদিনের অবহেলা। স্প্যানিশ ক্লাবটির হোম ভেন্যু এস্তাদিও দে ভায়েকাস দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এক পরিদর্শনে লেজিওনেয়ার্স রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং স্থাপনা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিসহ গুরুতর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার স্টেডিয়ামটির লাইসেন্স বাতিল করে দেয়। এসব সমস্যার জন্য প্রেসাকেই দায়ী করে আসছেন সমর্থকেরা।
নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি মৌসুমের প্রথম তিনটি হোম ম্যাচ নিজেদের মাঠের পরিবর্তে লেগানেসে খেলতে হয়েছিল রায়োকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজেদের মাঠে ফিরেও ম্যাচ শেষ করতে পারেনি দলটি। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে প্রেসার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন সমর্থকেরা। ‘প্রেসা, এখনই চলে যাও’ স্লোগানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা। একপর্যায়ে মাঠে কাগজের উড়োজাহাজ ও ছোট ছোট রাবারের বল ছুড়ে মারা হলে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্টেডিয়ামের মাইকে সমর্থকদের মাঠে কোনো বস্তু না ছোড়ার অনুরোধ জানানো হয়। মাঠকর্মীরা দ্রুত ঘাসের ওপর পড়ে থাকা বস্তুগুলো সরিয়ে নিলে প্রায় ১৫ মিনিট পর খেলা আবার শুরু হয়। তবে দক্ষিণ গ্যালারির সমর্থকেরা ফের মাঠে বস্তু ছুড়তে থাকলে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর অ্যাথলেটিক বিলবাও জানিয়েছে, মাদ্রিদে দলকে সমর্থন দিতে যাওয়া সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
রায়ো ভায়েকানোর মাঠ ও অনুশীলন-সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ অবশ্য নতুন নয়। গত মৌসুমেও ক্লাবটির খেলোয়াড়েরা এসব নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সে সময় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন প্রকাশিত খেলোয়াড়দের একটি চিঠিতে এস্তাদিও দে ভায়েকাসকে ‘খেলার অনুপযোগী’ বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের গোসলখানায় গরম পানির অভাব এবং অপর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছিল।
শুধু খেলোয়াড়েরাই নন, সমর্থকদেরও নিয়মিত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। ম্যাচের টিকিট কিনতে স্টেডিয়ামের ছোট কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। স্পেনের শীর্ষ ফুটবল লিগে খেলা একমাত্র ক্লাব রায়ো ভায়েকানো, যাদের টিকিট বিক্রির জন্য কোনো ওয়েবসাইট নেই।
অবকাঠামোগত সংকট, ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ এবং সমর্থকদের প্রতিবাদের মধ্যে মাঠের খেলাতেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই রায়ো। চলতি মৌসুমে লা লিগায় প্রথম সাত ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩তম স্থানে রয়েছে দলটি।

স্পোর্টস ডেস্ক