জলবায়ু পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের বড় অর্জন, আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য হলো বিএসসিএল
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) মহাকাশভিত্তিক আন্তর্জাতিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণ জোট স্পেস ফর ক্লাইমেট অবজারভেটরি (এসসিও)-এর সদস্য এবং বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ফ্রান্সের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত এ আন্তর্জাতিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে দেশের মহাকাশ প্রযুক্তি ও জলবায়ু কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএসসিএল এসসিওর কাছে সদস্য হওয়ার আগ্রহপত্র পাঠায়। পরে সংস্থাটির পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে সদস্য এবং জাতীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে ফ্রান্স সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত স্পেস ফর ক্লাইমেট অবজারভেটরি বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি বৈশ্বিক জোট। সংস্থাটি উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং স্থানীয় আর্থসামাজিক তথ্য একত্র করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ, পূর্বাভাস তৈরি এবং নীতিনির্ধারণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পে অর্থায়ন করে থাকে।
বর্তমানে ফ্রান্স, চীন, হাইতি, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে সংস্থাটির অর্থায়নে জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশেও সংস্থাটির অর্থায়নে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের সময় তাৎক্ষণিক জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস, ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি এবং বন্যার আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
এই সদস্যপদের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উপগ্রহভিত্তিক তথ্য, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নেও এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য মহাকাশ সম্মেলনে এ সদস্যপদ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুল রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি শুধু বিএসসিএলের নয়, বাংলাদেশের মহাকাশ ও জলবায়ু কূটনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উপগ্রহভিত্তিক জলবায়ু তথ্য ব্যবহারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্জন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক