এআই ও নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগে এগোচ্ছে রবি, গ্রাহক ও মুনাফা বৃদ্ধিতে শক্ত অবস্থানে
দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) মাধ্যমে ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ধারাবাহিক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কর-পরবর্তী মুনাফা ২৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে গত পাঁচ বছরে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াত সাতারা। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও ব্যবসায়িক অগ্রগতি উপস্থাপন করেন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) রুহুল আমিন।
জিয়াত সাতারা জানান, ২০২০ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকে রবির নেটওয়ার্কে ৭৬ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ১ কোটি ১০ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ২ কোটি ৫৫ লাখ নতুন ফোরজি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে রবি।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ৭২ শতাংশ ফোরজি ব্যবহারকারী। প্রতি ডেটা ব্যবহারকারীর মাসিক গড় ডেটা ব্যবহার ১০ গিগাবাইটের বেশি, যা এ খাতের সর্বোচ্চ বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
রবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই রাজস্ব ও কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ হাজার ৮১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালে কোম্পানির ইবিআইটিডিএ মার্জিন ছিল ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বেড়ে ৫৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে পরিচালন মুনাফার মার্জিন ১৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২০ সালে মোট রাজস্বের ৩৬ শতাংশ ডেটা সেবা থেকে এলেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা বেড়ে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভয়েস আয়ের প্রায় সমান।
নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্পেকট্রামের মূল্য বাদ দিয়ে ৯ হাজার ৩৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে রবি। এ সময়ে ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৭৩ থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ৬৪৬-এ উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি স্পেকট্রাম ধারণক্ষমতা ৩ দশমিক ৪ গুণ বেড়ে ১২৪ মেগাহার্টজে পৌঁছেছে।
ডিজিটাল ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিডিঅ্যাপস প্ল্যাটফর্মে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডেভেলপার ১ লাখ ২৫ হাজার অ্যাপ প্রকাশ করেছেন। এ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ডেভেলপারদের আয় হয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা। এছাড়া বিডিটিকিটস বর্তমানে ১৫০টির বেশি বাস অপারেটরের সঙ্গে কাজ করে প্রতিদিন ৮০ হাজারের বেশি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিষয়ে জিয়াত সাতারা বলেন, নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, গ্রাহকভিত্তিক পণ্য উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবা আরও কার্যকর করতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে 'মাই রবি' ও 'মাই এয়ারটেল' অ্যাপের মাধ্যমে ২ কোটি ২৮ লাখ গ্রাহক সেবা গ্রহণ করছেন। ভবিষ্যতেও ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মো. সাহেদ আলম বলেন, দেশে ইন্টারনেটের গতি ও কভারেজ উন্নয়নের প্রধান বাধা হলো নীতিগত কিছু সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত ফাইবার নেটওয়ার্কের অভাব। তিনি বলেন, ‘দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ব্যাকবোন ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং পর্যাপ্ত টাওয়ার ঘনত্ব প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার ও বিটিআরসির সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করছি।’ তিনি আরও জানান, সরকারের 'ফাইবার ব্যাংক' উদ্যোগ এবং নতুন ফাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের ইন্টারনেট সেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে বলে তারা আশা করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক