এআইয়ের কারণে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে চাকরি কমছে না
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি। দেশটির সর্বশেষ কর্মসংস্থান পরিসংখ্যানে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর বড় কোনো ঢেউয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক বিশ্লেষক।
বরং আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থির ছিল। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাকরি সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারকে এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অর্থনীতিবিদ নোয়া স্মিথের মতে, ভবিষ্যতে এআইয়ের কারণে কিছু পেশা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোন কোন পেশা এআইয়ের কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা কঠিন। তার মতে, অতীতের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো এআইও যত চাকরি বিলুপ্ত করবে, তার সমান বা তার চেয়েও বেশি নতুন চাকরি তৈরি করতে পারে।
এদিকে বৃটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, এআই ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরি তৈরি করেছে বলে তাদের হিসাব। যদিও এআইয়ের প্রভাবে উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের নিয়োগে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে, কলেজ ডিগ্রি নেই এমন মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির বাজার বেশ শক্তিশালী রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এআইয়ের প্রভাব একেবারেই নেই। সাম্প্রতিক চাকরির পরিসংখ্যানে এআইয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিছু শ্বেতপেশার চাকরি আগের মাসগুলোর তুলনায় বেশি কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানে এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের কারণে ‘চাকরি বিপর্যয়’ আসন্ন-এমন ধারণা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বরং প্রযুক্তিটি একদিকে কিছু কাজের চাহিদা কমাতে পারে, অন্যদিকে নতুন ধরনের কাজ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক