স্টারলিংকের সঙ্গে বাংলালিংকের সরাসরি মোবাইল-টু-স্যাটেলাইট সেবা চালু
বাণিজ্যিকভাবে স্টারলিংকের ডিরেক্ট-টু-সেল (ডিটুসি) সেবা চালুর জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদন পেয়েছে বাংলালিংক। এর ফলে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও বাংলালিংকের গ্রাহকেরা মোবাইল সংযোগ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলালিংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এ ধরনের ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা চালু হচ্ছে।
সেবাটি ব্যবহারের জন্য বিশেষ কোনো মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট ডিশ বা অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে না। বাংলালিংকের সংযোগ ও ফোর-জি-সক্ষম মোবাইল ফোন থাকলেই ডিটুসি কভারেজের আওতায় এ সেবা ব্যবহার করা যাবে। নতুন করে কোনো অবকাঠামো স্থাপনেরও প্রয়োজন হবে না।
শুরুতে ডিটুসি সেবার মাধ্যমে এসএমএস, ডেটা মেসেজিং ও হোয়াটসঅ্যাপ কল করা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক।
বাংলালিংকের মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যুক্ত করে এ সেবা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাগর, দুর্গম দ্বীপ, উপকূল ও পাহাড়ি এলাকার মতো মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা অঞ্চলেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও সেখানে কাজ করা মানুষ এ সেবার মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ও পর্যটকেরাও এ সুবিধা ব্যবহার করে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও ডিটুসি সেবা কাজে আসবে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে মোবাইল টাওয়ার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও এ সেবার মাধ্যমে যোগাযোগ চালু রাখা সম্ভব হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়োহান বুসে বলেন, এ উদ্যোগের মূল বিষয় প্রযুক্তি নয়, মানুষ। সাগরে থাকা জেলে, দুর্গম এলাকার পরিবার কিংবা দুর্যোগে আটকে পড়া মানুষের যোগাযোগ নিয়ে যেন চিন্তা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই স্টারলিংকের মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমার বাইরে সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলালিংক জানিয়েছে, বিটিআরসির অনুমোদনের ফলে ভৌগোলিক কারণে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা মানুষের জন্য যোগাযোগসেবা আরও সহজলভ্য করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক