আইএসপি খাতে ক্যারিয়ারের জন্য ৪ বিষয়ে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব আইএসপি কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লগইন ইনটু ইন্ডাস্ট্রি নেক্সট’ শীর্ষক ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম।
গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ান স্কাই কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্কিং, ইন্টারনেট সেবা (আইএসপি) খাতের কার্যক্রম, প্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিটিএসপিএবি) সভাপতি আবদুল্লাহ ইবনে নুরুল ইসলাম, বাহন লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ, সামিট কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) শারমিন জামান এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুলতানা ইশরাত জাহান।
অনুষ্ঠানে ওয়ান স্কাই কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুর রহমান রাজন বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব আইএসপি কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, দেশের আইএসপি খাত শুধু ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ খাত পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অবকাঠামো ও ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী খাত হিসেবে আরও বিকশিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে আইএসপিগুলো শুধু ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে না; ক্লাউড সার্ভিস, সাইবার নিরাপত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)-সহ বিভিন্ন উন্নত ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে। ফলে এ খাতে তরুণদের কাজের পরিধি ও সম্ভাবনা বাড়ছে।
তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন আমিনুল হাকিম।
প্রথমত, তিনি নেটওয়ার্কের মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে শেখার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হলেও নেটওয়ার্কিংয়ের মৌলিক জ্ঞান সব সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। দ্বিতীয়ত, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দেন। এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়ার বদলে কাজের ধরন ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনবে উল্লেখ করে তিনি তরুণদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।
তৃতীয়ত, তিনি সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। যে খাতেই ক্যারিয়ার গড়া হোক না কেন, সাইবার সচেতনতা ও নিরাপত্তাজ্ঞান প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। চতুর্থত, তিনি পেশাগত যোগাযোগ দক্ষতা বা কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর পরামর্শ দেন। কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন ও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তরুণরা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন।
আয়োজকেরা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটভিত্তিক শিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ খাতে শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং পেশাগত আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আগেভাগে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য তাদের আরও প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
‘আপনার দক্ষতা-আগামীর প্রবেশপথ’ ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের শিল্পের বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে ওয়ান স্কাই কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত রয়েছে ওয়ান স্কাই ইনফরমেশন টেকনোলজি (ওএসআইটি), স্কাই ট্র্যাকার ও প্রগতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক