স্মার্টফোনের অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখা কেন জরুরি
স্মার্টফোন ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন অ্যাপ আপডেট করার নোটিফিকেশন আসে। অনেকেই বিরক্ত হয়ে এসব নোটিফিকেশন এড়িয়ে যান কিংবা আপডেট না করেই অ্যাপ ব্যবহার করতে থাকেন। তবে অ্যাপের আপডেট শুধু নতুন ফিচার যোগ করার জন্য নয়, ফোনের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাপ আপডেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার সুবিধা এখন অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন-দুই প্ল্যাটফর্মেই রয়েছে। তবে স্বয়ংক্রিয় আপডেটের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মাঝে মাঝে নিজে অ্যাপ আপডেট হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপডেট আটকে যেতে পারে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল নাও হতে পারে।
নতুন ফিচার পাওয়া যায়
অ্যাপ আপডেটের সবচেয়ে দৃশ্যমান সুবিধা হলো নতুন ফিচার। আপডেটের মাধ্যমে নতুন বাটন, সুবিধা, টুল বা উন্নত সেবা যুক্ত হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলোতে নিয়মিতই নতুন সুবিধা যোগ হয়। আবার শপিং বা ইউটিলিটি অ্যাপের ক্ষেত্রে বছরে এক-দুবার বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। আপডেট না করলে এসব নতুন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন ব্যবহারকারী। তবে সব আপডেট যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, এমন নয়। কখনো নতুন সংস্করণে আগের কোনো সুবিধা বাদ যেতে পারে বা নতুন কোনো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সক্রিয় অ্যাপের নির্মাতারা পরবর্তী আপডেটের মাধ্যমে তা ঠিক করার চেষ্টা করেন।
নিরাপত্তা বাড়ে
অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো নিরাপত্তা। কোনো অ্যাপের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি শনাক্ত হলে সেটি কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর ফোন বা অ্যাপে থাকা তথ্যের ওপর আক্রমণ চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর সেটি কাজে লাগানোর জন্য আক্রমণকারীদের হাতে সময় থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট ত্রুটির সমাধানসহ নতুন সংস্করণ প্রকাশ হলে দ্রুত অ্যাপটি আপডেট করা নিরাপদ।
অ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি অপারেটিং সিস্টেমের ত্রুটির তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীতে আইফোনের অ্যাপ ব্যবহার করেও বিভিন্ন ধরনের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর জুমের অ্যাপেও এমন একটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছিল, যার মাধ্যমে অন্যের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারত।
বাগ ঠিক হয়, বাড়ে কর্মক্ষমতা
অ্যাপ আপডেটের মাধ্যমে শুধু নতুন ফিচারই আসে না, পুরোনো বিভিন্ন সমস্যাও ঠিক করা হয়। কোনো অ্যাপ বারবার ক্র্যাশ করা, ধীরগতিতে কাজ করা কিংবা ব্যাটারি বেশি খরচ করার মতো সমস্যার সমাধান থাকতে পারে নতুন সংস্করণে। ডেভেলপাররা অনেক সময় অ্যাপের কোডে পরিবর্তন এনে সেটিকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করেন। ফলে আপডেটের পর ব্যবহারকারীর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত হতে পারে।
নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য
অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের নতুন সংস্করণ প্রকাশের পর অ্যাপ নির্মাতাদেরও নিজেদের অ্যাপ নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হয়। তাই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করার পর অ্যাপগুলোও সর্বশেষ সংস্করণে রাখা জরুরি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে কাজ করার জন্য অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি কিছু অ্যাপ পুরোনো সংস্করণে চলাও বন্ধ করে দিতে পারে। এ ছাড়া নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা ব্যবহার করতে অ্যাপ আপডেট প্রয়োজন হতে পারে। যেমন আইফোনে কোনো অ্যাপ নতুন সুবিধা সমর্থন করলেও পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী সেই সুবিধা নাও পেতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অ্যাপ অচল হওয়ার ঝুঁকি
অ্যাপ দীর্ঘদিন আপডেট না করলে এমন সময় সেটি আপডেট চেয়ে বসতে পারে, যখন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। যেমন বিমানে ওঠার পর, ভ্রমণের সময় বা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ আপডেট ছাড়া কাজ না করলে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করে রাখা ভালো। স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে আপডেট বাকি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা উচিত। অ্যাপ আপডেটের মাধ্যমে নতুন সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ত্রুটি দূর হয়, বাগ ঠিক হয়, কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও দীর্ঘদিন অ্যাপ আপডেট আটকে রাখা ঠিক নয়।

ফিচার ডেস্ক