আজ থেকে উন্মুক্ত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’, টিকিট কাটবেন যেভাবে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি ঘিরে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনে কেবল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
যেভাবে প্রবেশ করবেন
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক (স্লট) টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাই আগ্রহীদের আগে থেকেই july36.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে পছন্দের সময় নির্বাচন করতে হবে। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন কিংবা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে দর্শনার্থীরা জাদুঘরটি ঘুরে দেখতে পারবেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘মর্নিং স্লট’, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ‘মিড-ডে স্লট’ এবং বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘ইভনিং স্লট’ চালু থাকবে। সম্মানিত দর্শনার্থীরা তাদের কেনা টিকিটে যে সময়সীমা বা স্লট উল্লেখ থাকবে, ঠিক সেই সময়ের মধ্যেই কেবল জাদুঘরের মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন।
কী আছে জাদুঘরে
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগের দলিল, গুম ও নির্যাতনের তথ্য-উপাত্ত, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর। এসব প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিগত দেড় দশকের আলোচিত কয়েকটি ঘটনাও বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা। এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং গুম-নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও।
আকর্ষণের কেন্দ্র ভাস্কর্য ও প্রতীকী কবর
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কবর। পাশাপাশি আন্দোলনের নানা স্মরণীয় মুহূর্ত ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের প্রতীকী ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ফিচার ডেস্ক