করোনা শনাক্তকরণে ঘাটতির জন্য ওবামা সরকারকে দুষলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। এ ছাড়া শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৯ জন। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে মার্কিন সরকার। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্রের ঘাটতির জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, বারাক ওবামার আমলে কেন্দ্রীয় সংস্থার একটি সিদ্ধান্তের জন্য ভাইরাস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা চালানো কঠিন হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসে করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের বৈঠকে গতকাল বুধবার এমন অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তবে বারাক ওবামা সরকার কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘বারাক ওবামা সরকার পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেটি আমাদের কাজের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হতে পারে। আমরা কিছুদিন আগে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করেছি। এর ফলে আরো সঠিকভাবে ও দ্রুত পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড বলছেন, ‘বেসরকারি গবেষণাগারগুলো আগে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পারত। কিন্তু আগের সরকার এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।’
তবে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবামা প্রশাসনের এমন কোনো বিধি সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন।
এরই মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য গোটা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৬টি অঙ্গরাজ্যে কমপক্ষে দেড়শ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণে মৃত ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই ওয়াশিংটনে মারা গেছেন। টেক্সাস ও নেব্রাসকাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে তুলনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভাইরাসটি প্রতিরোধে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করছে বলে বেশ কয়েকজন মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। এদিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাড়ে ৭০০ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস।
করোনা নির্মূলে গবেষণা আরো জোরদার করতে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাব পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘যখন থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, তখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি। যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেখানে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় এই রোগের সংক্রমণ ঠেকানোর কাজে আমরা অনেকটা এগিয়ে আছি।’
এদিকে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৮৫ জনে। এর মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ডে করোনায় মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১২ জনের। এ ছাড়া শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যম বিএনও নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
এরই মধ্যে ৭০টির বেশি দেশে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস শুধু প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে ব্যবসায়িক পরিধিও।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ শেট গ্রিন বলেন, ‘করোনার কারণে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রদর্শনী বাতিল হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। সরাসরি আলোচনা বা বৈঠকের সুযোগ কমে আসার ফলে বিনিয়োগ ও বিপণন থমকে আছে।’
এদিকে, ইতালিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনার প্রকোপ। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে। চীনের পর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইতালিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে, ইরানেও করোনা পরিস্থিতি নাজুক। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের। এ ছাড়া সমান হারে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, দেশটির আট ভাগ পার্লামেন্ট সদস্য এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে ৫৪ হাজার বন্দিকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে দেশটির সরকার।
এদিকে, আর্জেন্টিনা ও চিলিতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ভাইরাসটির পরিধি বাড়তে থাকায় অনেক দেশের অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সরঞ্জাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাই গ্লাভস ও মাস্ক মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এরই মধ্যে করোনাজনিত কোভিড-১৯ রোগ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এক হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বব্যাংক।

অনলাইন ডেস্ক