স্বামীর চিকিৎসার জন্য ম্যারাথনে ৬৩ বছরের নারী
একজন পেশাদার দৌড়বিদের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার? এ প্রশ্ন করা হলে সবাই একবাক্যে জবাব দেবেন- সুস্বাস্থ্য, যথেষ্ঠ প্রাণশক্তি আর খেলোয়াড়সুলভ মেজাজ। তবে ভারতের দৌড়পাল্লার সফল দৌড়বিদদের একজন দিয়েছেন একটু ভিন্ন জবাব। বলেছেন, ‘আমাকে কেউ একটা জুতা কিনে দিলে ভালো হয়। খালি পায়ে দৌড়াতে খুব কষ্ট।’
যার কথা হচ্ছিল তিনি ৬৩ বছর বয়স্ক এক নারী। নাম লতা ভাগওয়ান কারে । শাড়ি পরে, জুতা ছাড়াই ম্যারাথনে দৌড়ান এই নারী। ম্যারাথন বা দূরপাল্লার দৌড়ের খবর পেলেই সেখানে হাজির হয়ে যান তিনি । ব্যতিক্রম হলো না এবারের মহারাষ্ট্রের বারামতি ম্যারাথনেও এবং শুধু হাজির হওয়াই নয়‚ জ্যেষ্ঠ নাগরিক বিভাগে অংশ নিয়ে এই নিয়ে টানা তিনবার প্রথম পুরস্কার জিতে নিলেন তিনি ।

বারামতি ম্যারাথন জেতার পর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে লতা জানালেন, তাঁর এই দৌড় শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে । লতার স্বামী তখন অক্রান্ত হার্টের অসুখে । মাঝেমধ্যে মাথা ঘুরত আর বুকে ব্যথা হতো এই স্বল্প বেতনের সিকিউরিটি গার্ডের । ছেলেরও কোনো পাকা কাজ নেই । আর লতা নিজে দিনমজুর । প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচটুকু করারও সাধ্য ছিল না এই গরিব পরিবারের । তখনই কোনোভাবে ম্যারাথন দৌড়ের কথা জানতে পারেন লতাদেবী । জিততে পারলে পুরস্কার নগদ পাঁচ হাজার টাকা । টাকার প্রয়োজনই তাঁকে টেনে নিয়ে যায় ট্র্যাকে । তারপর থেকে দৌড়ের ইভেন্ট হলেই নিয়মিত হাজিরা দিতে থাকেন লতাদেবী ।
প্রথম প্রথম লজ্জা করলেও সংসারের প্রয়োজনে দৌড়ে চলেন লতাদেবী । লোকের ব্যঙ্গ উপেক্ষা করে জেতা প্রথম পুরস্কার বাড়িয়ে দিয়েছিল মনের জোর । আর সেই জোরেই নিজেকে ফিট রাখতে আজও নিয়মিত সকালে মর্নিং ওয়াকে যান লতা ভাগওয়ান কারে ।

অনলাইন ডেস্ক