কেজরিওয়ালের মুখে কালি ছুড়লেন নারী
দিল্লির ছত্রসাল স্টেডিয়াম। পাঁচ হাজারের মতো অতিথি এসেছেন। সবার উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেরজিওয়াল। সবার ভেতরেই বেশ উৎসবের আমেজ। আর উৎসবমুখর পরিবেশ হবেই না বা কেন? আজ তো তাঁরা এখানে জমায়েত হয়েছেন একটি বিশেষ সাফল্য উদযাপন করতে।
কিছুদিন আগেই দিল্লির সড়কগুলোর যানজট নিরসনে দারুণ একটি পদক্ষেপ নেয় আম আদমি সরকার। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে শুধু জোড়-বেজোড় সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পরিবহনগুলো রাস্তায় বের হতে পারবে বলে নিয়ম করে দেওয়া হয়। এই নিয়মের ফলে বেশ সুফল পাওয়া যায়। কমে যায় অসহনীয় যানজট আর দূষণের মাত্রা। আম আদমি পার্টির এই সাফল্য উদযাপন করতেই গতকাল বিকেলে আয়োজন করা হয় এই সমাবেশের।
বিকেল পৌনে ৫টার দিকে যখন উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছিলেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেরজিওয়াল, তখনই ঘটে এক মহা-বিপত্তি। কেজরিওয়ালের মুখ লক্ষ্য করে কালি ছুড়ে মারেন এক নারী। শুধু কালী ছুড়েই ক্ষান্ত দেননি তিনি, আরো ছুড়ে মারেন হাতে থাকা কাগজ ও সিডি।
অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই নারীকে আটক করে পুলিশ।
এনডিটিভি জানায়, ভাবনা আরোরা (২৬) নামের ওই নারী ‘আম আদমি সেনা’ নামে একটি দলের সদস্য। আম আদমি পার্টির বিদ্রোহী সদস্যদের নিয়ে এই দল গঠিত।
এ ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর দিকে কালি ছুড়ে মারা ঘটনায় একটি মামলাও করা হয়েছে।
এদিকে, কেজরিওয়ালকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়ার ঘটনায় আম আদমি পার্টি সরকারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ঘাটতি বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী মনীষ সিসোদিয়া। সেইসাথে বিজেপিও দুষছেন তিনি। মনীষ বলেন, ‘যদি কেউ কেজরিওয়ালের দিকে কালির বদলে এসিড ছুড়ে দিত? এমনকি কালি ছুড়ে মারার পরও ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে রীতিমতো টেলিভিশন ক্যামেরার কাছে বক্তব্যও দিয়েছে। আমার মনে হয়, এটা পুলিশের ষড়যন্ত্র। দেখে মনে হয়েছে, কেজরিওয়ালের ওপর হামলার ঘটনার জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিল দিল্লি পুলিশ।’
উপমুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তিনি এ ঘটনার মধ্যে বিজেপির ষড়যন্ত্রও দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মন্ত্রিসভায় কেজরিওয়ালকে আক্রমণ করা হতে পারে। এ ছাড়া জোড়-বেজোড় গাড়ি পদ্ধতি ব্যবহার করে আম আদমি পার্টি যে সাফল্য ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেটাকে নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশও এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।’
তবে দিল্লি বিজেপির প্রধান সতীশ উপাধ্যায় এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তবে এটাও ঠিক যে, এ ঘটনার মাধ্যমে আম আদমি পার্টির প্রতি জনগণের যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে, সেটাই ফুটে উঠেছে।’
এ ছাড়া দিল্লি পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে তারা। দিল্লি পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী সমাবেশস্থলের জন্য যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অনলাইন ডেস্ক