মেঝের নিচে ২০ কেউটে
ঘরের মেঝের নিচে বাসা বেঁধেছিল কেউটের দল। তাও একটা বা দুটো নয়, একসঙ্গে গোটা বিশেক বিষধর কেউটে সাপ। গৃহকর্তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি তাঁর ঘরের মেঝের নিচেই লুকিয়ে রয়েছে এই মৃত্যুদূতের দল।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালীগঞ্জের মধ্য দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
জানা যায়, দুর্গাপুরের স্থানীয় বাসিন্দা শিবাজি প্রসন্ন রায়। স্ত্রী সন্তান নিয়ে মাটির বাড়িতে বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে মাটির বাড়িতে নিশ্চিন্তেই বাস করছিলেন তাঁরা। আচমকা ছন্দপতন ঘটে মঙ্গলবার সকালে।
শিবাজি প্রসন্ন জানান, মঙ্গলবার সকালে রান্নাঘরের দাওয়ায় একটা ছোট সাপের বাচ্চাকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন তিনি। সাপের বাচ্চাকে দেখেই সন্দেহ হয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পাড়া-প্রতিবেশীদের জানান। বিষধর সাপের বাচ্চাকে দেখে ভয় পেয়ে যান পাড়া-প্রতিবেশীরাও। তড়িঘড়ি যে যার মতো বাড়ির আশপাশের ঝোপ জঙ্গল সাফ করতে নেমে পড়েন। কিন্তু কোথাও দেখা মেলেনি বাকি সাপের।
কিন্তু ছোট সাপের বাচ্চার যেহেতু দেখা মিলেছে, সেহেতু আরো সাপ যে রয়েছে সে ব্যাপারে একরকম বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয় পাড়া-প্রতিবেশীদের। নিরুপায় হয়ে তাঁরা খবর দেন কালীগঞ্জ থানায়। কিন্তু পুলিশ এসে একটু খোঁজাখুঁজি করে জানায়, সাপ ধরা তাদের কাজ না।
পরে খবর দেওয়া হয় দুর্গাপুর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রায়গঞ্জ পিপলস ফর এনিমেলে। তারা এসেই মাটিতে কান রেখে কিছু ঠাওর করার চেষ্টা করেন। তারপরেই শিবাজি প্রসন্ন রায়ের মেঝে খোঁড়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। আর মেঝে খুঁড়তেই রীতিমতো পড়িমরি অবস্থা চারিদিকে। মেঝের নিচে গর্তের ভেতর বাসা বানিয়ে ঘাপটি মেরে তখন গোটা বিশেক বাচ্চাসহ কয়েক ফুট লম্বা একটি বিষধর কেউটে। এরপরেই একে একে পিপলস ফর এনিমেলের সদস্যরা গর্ত থেকে কেউটের বাচ্চাসহ সাপটিকে ধরে ফেলেন।
পিপলস ফর এনিমেলের সদস্যরা জানান, সাপগুলোকে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়া হবে। অবশেষে ২০টির ওপর মৃত্যুদূতকে উদ্ধারের পর শিবাজি প্রসন্ন রায়ের পাশাপাশি তাঁর পাড়া-প্রতিবেশীরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।

মনোজ বসু, কলকাতা