ভারতে গো-সেবকদের ৭০-৮০ শতাংশই ভুয়া
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশটির গো-সেবকদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ভুয়া। গরু রক্ষার নামে তারা সমাজবিরোধী কাজকর্ম করছে। এমন ভুয়া গো-সেবকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
গতকাল শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ কথা বলেন।
ভারতে গরু রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘যখন দেখি গরু রক্ষার নামে কিছু লোক নিজেদের দোকান খুলে বসেছে, তখন ভীষণ রাগ হয়। কিছু লোক রাতে অবৈধ কাজকর্মে লিপ্ত থাকে, আর দিনে গো-সেবকের পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়।’
ছদ্মবেশী গো-সেবকদের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সরকারকে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরির নির্দেশ দেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে অবাক হবেন, অধিকাংশ গরু প্লাস্টিক খেয়ে মারা যায়। আমি একবার একটি গরুর পেট থেকে দুই বালতি প্লাস্টিক বের হতে দেখেছি। তাই গো-সেবকদের প্রতি অনুরোধ, গরুকে প্লাস্টিক খাওয়ানো বন্ধ করতে পারলে সেটাই হবে প্রকৃত গো-সেবা। যারা প্রকৃতই গরুকে ভালোবাসে, তারা কখনই মানুষকে সন্ত্রস্ত করে না।’
নরেন্দ্র মোদি আরো বলেন, ‘সমাজসেবা বোধ আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ। কেউ বিপদে পড়লে সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, সবার আগে ভারত। আর এটাই আমাদের বিদেশনীতির একমাত্র মূলকথা।’
সম্প্রতি ভারতের বেশ কয়েকটি স্থানে গরু রক্ষার নামে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। বিশেষত মোদির রাজ্য গুজরাটে গরু রক্ষার নামে মুসলিম এবং দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশে মোহাম্মদ আখলাক নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা এবং মধ্যপ্রদেশের এক রেলস্টেশনে দুই মুসলিম নারীর কাছে গরুর গোশত আছে—এমন অভিযোগ তুলে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা বিশ্বের দরবারে ভারতের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কলকাতা সংবাদদাতা