কাশ্মীরে নতুন করে সংঘর্ষ, নিহত ৫
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ কাশ্মীরের দুটি গ্রামের পৃথক দুটি সংঘর্ষে তাঁরা নিহত হন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে দক্ষিণ কাশ্মীরের রায়পাথান গ্রামের চারজন এবং লারকিপোরা গ্রামের একজন নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রায়পাথান গ্রামে পুলিশের একটি টহল দল বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে চারজন নিহত হন।
বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনার পর আরো ১২ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, লারকিপোরা গ্রামের আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রতিবেদনের তদন্ত করা হবে।
গত মাসের শুরুতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে বুরহান মোজাফফর ওয়ানি নিহতের ঘটনার পরপরই উত্তাল হয়ে ওঠে জম্মু-কাশ্মীর। গত ৯ জুলাই থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে কারফিউ জারি করা হয়। ওই সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৬০ জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েক হাজার মানুষ। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই কাশ্মীরে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।
এর আগে ২০১০ সালে কাশ্মীরে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ওই সময় ভারতবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহত হয় শতাধিক মানুষ।
ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ৬০ বছর ধরে দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুটি বড় যুদ্ধও হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের অনেক কট্টরপন্থী সংগঠন ভারত থেকে স্বাধীনতা পাওয়া অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবিতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক