সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ অবৈধ ছিল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ অবৈধ ছিল বলে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি গোপাল গৌড়া ও বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ এ রায় দেন।
২০০৬ সালে সিঙ্গুরে টাটা কোম্পানির ন্যানো গাড়ি তৈরির জন্য কৃষকের কাছ থেকে জমি নেওয়া নিয়ে সেই সময়ে তুমুল আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকারকে। যার নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
আজ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়কে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রায় ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শুরু করেন আবির খেলা ও মিষ্টিমুখের। আগামী শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ‘সিঙ্গুর উৎসব’ পালন করার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার আইন মেনে সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করেনি। ফলে, আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে এর আগে সিঙ্গুরের জমি হারানো কৃষকরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন তা তাদের ফেরত দিতে হবে না বলেও জানিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। কারণ, গত ১০ বছর ধরে জমি হারানোর ফলে তারা তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারেনি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জমি যার, অধিকার তার। নির্বাচনে জিতেও এই রায়ের জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম। আজ আমি স্যালুট জানাই তাদের, যারা ততকালীন বাম সরকারের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল। এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়, সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে যে টানা অনশন হয়েছিল সেই অনশনের জয়, সিঙ্গুরের জয়।
২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানার জন্য কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে রতন টাটার হাতে তুলে দেয়। টাটা কোম্পানির ওই ন্যানো কারখানার জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আন্দোলনে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনের মুখে একসময় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়ে টাটা। বড় ধাক্কা খায় সেই সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার।

মনোজ বসু, কলকাতা