এবার মৃত মেয়েকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটলেন বাবা
মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবারো নির্মম একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে। অ্যাম্বুলেন্স চালক গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ায় মৃত মেয়ের মরদেহ নিয়ে ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন এক বাবা।
দুই সপ্তাহ আগে উড়িষ্যার কালাহান্ডির বাসিন্দা দানা মাঝিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকার করে। এরপর স্ত্রীর মরদেহ কাঁধে নিয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়েছিলেন তিনি। ১২ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দানা মাঝির সেই পথ চলা দেখে চমকে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। ওই ঘটনা লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল সমগ্র ভারতকে।
এবার সেই উড়িষ্যাতেই ফের একই ধরনের অমানবিক চিত্র দেখা গেল। এবার সাত বছরের মেয়ের মরদেহ কোলে করে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটতে বাধ্য হলেন মা-বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে উড়িষ্যার মালকানগিরি এলাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালকানগিরির ঘুষাপল্লির বাসিন্দা দীনবন্ধু খেমডুর সাত বছরের মেয়ে বর্ষা খেমডু কয়েকদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে স্থানীয় মৈথিলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে মালকানগিরি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকালে দীনবন্ধু খেমডু ও তাঁর স্ত্রী পুস্পালি খেমডু একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে মালকানগিরি জেলা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট ও অপর এক হাসপাতালকর্মী। পথে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মারা যায় শিশু বর্ষা খেমডু।
এরপর মৃতদেহ নিয়ে পথ চলতে অস্বীকৃতি জানান অ্যাম্বুলেন্সের চালক। তিনি মাঝপথেই মৃত মেয়ের মরদেহসহ দীনবন্ধু ও পুষ্পালিকে নামিয়ে দেন। পরে ফার্মাসিস্ট ও হাসপাতালকর্মীকে নিয়ে ফিরে যান অ্যাম্বুলেন্সের চালক। ফলে বাধ্য হয়ে মেয়ের মৃরদেহ কোলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পথ হাঁটতে শুরু করেন দীনবন্ধু খেমডু।
প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটার পর স্থানীয় লোকজনের নজরে পড়েন এই দম্পতি। সাদা কাপড়ে মৃত মেয়ের দেহ ঢেকে মা-বাবার হাঁটার দৃশ্য দেখার পরই গ্রামবাসী স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় মৈথিলী হাসপাতালে। খবর পেয়ে ফের অ্যাম্বুলেন্স পাঠায় মৈথিলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই অ্যাম্বুলেন্সে চড়েই শেষ পর্যন্ত মেয়ে বর্ষা খেমডুকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন দীনবন্ধু ও তাঁর স্ত্রী পুষ্পালি।
এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক, ফার্মাসিস্ট ও হাসপাতালকর্মীর বিরুদ্ধে মালকানগিরি থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে মালকানগিরির জেলা প্রশাসক সুদর্শন চক্রবর্তী জানান, অ্যাম্বুলেন্সের চালক অবৈধ ও অসামাজিক কাজ করেছেন। এই ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও তাঁর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক এরই মধ্যেই ঘটনার তদন্তে মালকানগিরি জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উদয়শঙ্কর মিশ্রকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কলকাতা সংবাদদাতা