ভারত- বাংলাদেশে পণ্যবাহী রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল
দীর্ঘ ১৩ বছর পর শুরু হতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্যবাহী রেল চলাচল। আজ বুধবার দুপুরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার রাধিকাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত রেল ইঞ্জিনের পরীক্ষামূলক যাত্রার সূচনা হয়।
২০০৪ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাধিকাপুর সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ভারতীয় অংশের ব্রডগেজ রেললাইন বদলে ফেলার কারণে। এরপর অবশ্য বাংলাদেশও নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করে। কিন্তু দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে জিরো পয়েন্ট থেকে ৩০০ মিটার রেললাইন নির্মাণের কাজ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে থমকে ছিল রেলপথে পণ্য পরিবহন। এরপর চলতি বছরের গত জুলাই মাসে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভারতীয় রেলের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল শাখা এখানকার ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অংশের রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করে।
বুধবার রাধিকাপুর স্টেশন থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ভারতীয় রেলের পক্ষে নতুন রেল ট্রাকে পরীক্ষামূলক রেল ইঞ্জিন চালানো হয়। আগামী দিনে এই পথেই চলবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্যবাহী রেল।
এই দিন রাধিকাপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেন। পরীক্ষামূলক এই রেল ইঞ্জিন চলাচলের সূচনা করেন ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের নির্মাণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বি এস মিনা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভারতের কাটিহার ডিভিশনের এস বর্মা, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৬৭ ব্যাটালিয়নের সিইও নন্দীশ কাউরসহ ভারতীর রেল ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।
বি এস মিনা বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে এই নতুন রেলপথে ইঞ্জিন চালানো হলো। আগামী দিনে এই রেলপথ দিয়েই ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী রেল চলাচলের আগে এটাই ছিল প্রাথমিক ধাপ।’
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্যবাহী রেল চলাচলে খুশি স্থানীয় কালিয়াগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতিও। এই ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুনীল সাহা বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আগামীতে এই রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে যেমন খাদ্যশস্য, হোসিয়ারি সামগ্রী থেকে নানা সামগ্রী বাংলাদেশে যাবে, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পাটজাত সামগ্রী থেকে অন্যান্য সামগ্রী এ দেশে আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে নানা পণ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে রেলপথে এই যাতায়াতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।’

কলকাতা সংবাদদাতা