অযোধ্যায় হবে রামায়ণ জাদুঘর
ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রামায়ণ জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের অদূরে রামায়ণ জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ, এরইমধ্যে ওই জাদুঘর নির্মাণের জন্য ২২৫ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। এই জাদুঘর নির্মাণের জন্য বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে প্রায় ২৫ একর জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সেই জমি পর্যবেক্ষণে যান ভারতের কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা। জমি ঘুরে দেখার পর রামায়ণ অ্যাডভাইজারি বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন মহেশ শর্মা।
জানা যায়, রামায়ণে উল্লেখিত নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে অযোধ্যার যে মেলবন্ধনের কথা উল্লেখিত আছে তা কীভাবে মেলানো যায় সেই রূপরেখা তৈরি হয় এই বৈঠকে। পাশাপাশি, অযোধ্যা বা চিত্রকুটে আন্তর্জাতিক রামায়ণ সম্মেলন করার পরিকল্পনাও তৈরি হয় এদিনের বৈঠকে। একইসঙ্গে এই জাদুঘরে প্রতিদিন রাম ও রামায়ণের ওপর অনুষ্ঠান করা হবে বলেও ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে ভগবান রাম ও রামায়ণকে কেন্দ্র করে রামের জাদুঘর নির্মাণ বিজেপির রাজনৈতিক চাল বলে মনে করছেন বিরোধী মহল। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে অযোধ্যা ও রামের প্রভাব যথেষ্ট।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করেছেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীসহ কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্রেফ ধর্মের সুঁড়সুঁড়ি দিতে চাইছে বিজেপি।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিউজিয়াম তৈরি হলে উত্তরপ্রদেশে পর্যটনের উন্নতি হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মহেশ শর্মা জানান, মিউজিয়াম নির্মাণের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। জাদুঘর নির্মাণ করা হলে পর্যটনের উন্নতি হবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ও পর্যটন দুটি ভিন্ন বিষয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব সময়ই চান, ভারত এগিয়ে চলুক। তিনি চান, দেশের উন্নতি হোক। এখানে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হলে অযোধ্যায় পর্যটনের প্রভূত উন্নতি হবে।’

কলকাতা সংবাদদাতা