বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরী আটক পশ্চিমবঙ্গে
মোবাইল ফোনের মিস কল থেকে আলাপ, তারপর প্রেম, পরে বিয়ের সিদ্ধান্ত। এই পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক ছিল। কিন্ত গোল বাধল বিয়ে করার স্থান নির্বাচন করতে গিয়ে।
বাংলাদেশ থেকে চোরাই পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসে বিয়ে করতে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়ল বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে বালুরঘাট থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা। পরে ওই কিশোরীর ঠাঁই হয় স্থানীয় একটি শিশুবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে। কিশোরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বালুরঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, গত কবুধবার রাতে বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মুক্তা খাতুন (১৪) এবং অমৃত সূত্রধর (১৭) নামে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কিশোরীকে শিলিগুড়ি নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ছেলেটির।
মুক্তার বাড়ি বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার ধানবান্দি এলাকায়। সে স্থানীয় পাড়িয়ার বান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অমৃত সূত্রধরের বাড়িও সিরাজগঞ্জ জেলার শিয়ালখর এলাকায়।
জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে মুক্তার বাড়ির মোবাইল ফোনে একটি মিস কল আসে। সেই মিস কল দেখে মুক্তা ওই নম্বরে ফিরতি ফোন কল করতে গিয়ে মুক্তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় অমৃতর। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। পুলিশি জেরায় মুক্তা খাতুন বলেছে, ‘ফোনে মিস কলের মাধ্যমে ওই ছেলেটির সঙ্গে আমার আলাপ। কিছুদিনের মধ্যে সে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। তবে বিয়ে বাংলাদেশে নয়, ভারতের শিলিগুড়িতে নিয়ে এসে সে আমাকে বিয়ে করবে বলে জানায়। কারণ, শিলিগুড়িতে অমৃতর এক বন্ধু থাকে বলে জানায় সে। এরপরেই আমরা বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই ভারতে আসি। ছেলেটি আমাকে শিলিগুড়ি নিয়ে গিয়ে বিয়ে করবে বলে বলেছিল। সেইমতো আমরা শিলিগুড়ির বাস ধরার জন্য বালুরঘাট বাস স্টপেজে অপেক্ষা করছিলাম। সেই সময় পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করে। পাসপোর্ট ছাড়াই তারা ভারতে প্রবেশ করে বলেও পুলিশি জেরায় জানায় মুক্তা।’
চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর সুরজ দাস জানান, জুভেনাইল আদালতের নির্দেশ মেনে আপাতত ওই কিশোরীকে মালদহ জেলার মালদহ সরকারি সেন্ট্রাল হোমে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, কিশোরকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। সুরজ দাস বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে মুক্তা খাতুন ও অমৃত সূত্রধরের বাড়িতে খবর পাঠিয়েছি। আমাদের ধারণা, কিশোরীকে ভারতে এনে পাচার করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ অমৃত সূত্রধরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখছে, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না।’

কলকাতা সংবাদদাতা