‘ভূতের’ ভয়ে ঘুম হারাম!
বাড়িতে রাতের খাবার খেতে বসতেই তিনতলা থেকে বিকট শব্দ। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, ঘরে চোর ঢুকেছে বুঝি। কিন্তু না! দ্রুত সেখানে গেলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুধু ঘরের আসবাব ওলটপালট।
আর অচেনা একটা গন্ধের সঙ্গে মনে হলো একটা ছায়ামূর্তি যেন অন্ধকারে মিশে গেল। ১৩ নভেম্বরের ওই ঘটনার পর থেকে ঘুম নেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বাসিন্দা মনতোষ মজুমদারদের গোটা পরিবারের।
মনতোষের বাড়িতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাগুলো মনে হতে পারে কোনো ভৌতিক মুভির গল্প। কিন্তু টানা কয়েক দিন একই ঘটনা ঘটার পর কাহিনী ছড়াতে দেরি হয়নি। শনিবার সকালে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে জড়ো হন শতাধিক মানুষ। পরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের ভিড় সরাতে পারলেও ভৌতিক ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রাতে তো বটেই, দিনেও ঘটছে এমন ভৌতিক ঘটনা। এ ঘটনা শুধু মজুমদারের পরিবাররা দেখছেন, তেমনটি নয়। প্রতিবেশীরাও এখন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন নানা ভৌতিক ঘটনা।
দরজায় লাগানো তালা হঠাৎ খুলে যাচ্ছে বিকট শব্দে, হঠাৎ ছিটকে পড়ছে টেলিভিশন। ভেঙে পড়ছে জানালার কাচ এবং দেয়ালে টানানো ছবি পড়ে যাচ্ছে মাটিতে। দিনের বেলা পুড়ে যাচ্ছে জামাকাপড়। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। শুধু চোখের পলক ফিরলেই একটা ছায়ামূর্তি ঘরের এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে যাচ্ছে। আর সন্ধ্যা নামলে ওই বাড়ির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। ১৩ নভেম্বরের পর প্রতিদিনের এমন ঘটনায় এখন বাড়িছাড়া অবস্থা ওই পরিবারের।
মনতোষ মজুমদারের ছেলে মানু মজুমদার জানান, অন্য এলাকার মানুষ এসেও ওই ছায়ামূর্তিকে দেখতে পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে ভৌতিক এসব ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভূত ধরার মতো প্রযুক্তি আমাদের কাছে নেই। এই ভৌতিক ঘটনায় মানুষজনের ভিড়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যবস্থা নেব।’

মনোজ বসু, কলকাতা