ইরানের আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের সম্মতি যুক্তরাষ্ট্রের
সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) মার্কিন ডলারের তহবিল অবমুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সম্মতি পেয়েছে ইরান। খবর আল জাজিরার।
কাতারের দোহায় শুরু হওয়া আলোচনা পর্বের পর সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থ ছাড় দেওয়া হলেও তার ব্যবহারে কড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
দুই ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলার
ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, দুই দেশের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই অর্থ অবমুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৬ বিলিয়ন ডলার করে দুই দফায় মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় করার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
৬০ দিনে পৌঁছাতে পারে ৫০ বিলিয়নে
নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রাথমিক ১২ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার পর আগামী ৬০ দিনের চলমান আলোচনা পর্বে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় হতে পারে। আর দুই পক্ষ যদি শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে অবমুক্ত হওয়া মোট তহবিলের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।
নগদ টাকা নয়, কেনা যাবে কেবল খাদ্য-ওষুধ
মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অর্থ ইরান সরাসরি কোনো নগদ বা আনরেস্ট্রিক্টেড ক্যাশ হিসেবে পাবে না। এই অর্থ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত বাজার এবং ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি মানবিক সহায়তার মতো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যয় করা যাবে। মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য, এই অর্থ যাতে কোনোভাবেই সামরিক খাতে ব্যবহৃত না হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক