আইসল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন রুবিও
আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ আরও জোরালো করতে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) আইসল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটন একটি নিরাপত্তা চুক্তি করার মাত্র দুই সপ্তাহ পর তিনি এই সফরে যাচ্ছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা’ করবেন।
সংক্ষিপ্ত এই সফরটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক— দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
চুক্তির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার যে হুমকি দিয়ে আসছিলেন, আপাতত তার অবসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করেছিল।
নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আরও দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড মার্কিন নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব বলয়ের আরও কাছাকাছি চলে আসবে।
আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বও আবার বেড়েছে। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
আগস্টের শেষ দিকে আইসল্যান্ডের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ভোটে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ এর বিপক্ষে এবং ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে ভোট পড়ে।
২০১৩ সাল থেকে ইইউতে যোগদানের আলোচনা স্থগিত রয়েছে। ২০২১ সালে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পর মার্কো রুবিওই প্রথম মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আইসল্যান্ড সফর করছেন।
১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী নেই। দেশটি নিরাপত্তার জন্য ন্যাটো ও ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভর করে।
আইসল্যান্ড সফর শেষে রুবিও গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে যাবেন। সেখানে ন্যাটোর সদস্য গ্রিসের সঙ্গে ‘কৌশলগত সংলাপে’ অংশ নেবেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)