নতুন বই
শান্তনু চৌধুরীর দুটি উপন্যাস
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শান্তনু চৌধুরীর লেখা দুটি উপন্যাস এবার এসেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। ছাত্র রাজনীতি, খুন-খারাবি, হল দখল আর ক্যাম্পাস-প্রেম নিয়ে পার্ল পাবলিশার্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, স্টল নম্বর : ৩৫৩ থেকে ৩৫৬) থেকে প্রকাশ হয়েছে ‘অন্য সময়ের প্রেম’। দাম ২০০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন অরূপ মান্দী। একটি মেয়ের চাওয়া-পাওয়া, হতাশা আর রোমান্টিক জীবন পাওয়ার আকুতি নিয়ে উপন্যাস ‘পর সমাচার এই যে’ প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, স্টল নম্বর ৫০২-৫০৩)। প্রচ্ছদ হোসাইন তৌফিক ইফতিখার। দাম ২০০ টাকা।
মূলত রোমান্টিক ধারার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রেমের উপন্যাস হলেও উপন্যাস দুটিতে রয়েছে এক অন্য ভিন্নমাত্রিকতা। এর কারণ বিষয়বস্তু নির্বাচন। ‘অন্য সময়ের প্রেম’ উপন্যাস সম্পর্কে প্রকাশক জানাচ্ছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরতে পরতে রোমান্টিকতা। চারদিকে সবুজ যেন অবুঝের মতো হাতছানি দিয়ে ডাকছে, প্রেমে পড়তে। ক্যাম্পাস প্রেম। কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় ছাত্ররাজনীতির একটা সময়। সেটা নষ্ট সময় বা মৌলবাদের বন্ধ্যত্ব কাটিয়ে আলোর দিকে যাত্রা। কিন্তু সেই সময় কতটা ধরে রাখতে পেরেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের পরবর্তী নেতারা। পরিবার চেয়ে আছে প্রতিষ্ঠার আশায়। ভালোবাসার মানুষটিও চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে অন্যের হাত ধরে। এসবের মূল কারণ ছাত্ররাজনীতি। এর মধ্যে প্রতিদিন মারামারি, খুন-খারাবি তো ঘটছেই। উপন্যাসের আড়ালে সেই সত্য তুলে ধরেছেন শান্তনু চৌধুরী। আগামীতে ছাত্ররাজনীতির স্বরূপ নিয়ে কেউ গবেষণা করলে সেখানেও তথ্যসূত্র হিসেবে বইটি কাজে লাগবে।’ উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে শান্তনু চৌধুরী যে বেশ খেটেছেন, সেটা বোঝা যাবে তাঁর স্বীকারোক্তিতে। তিনি বলছেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির একটা সময়, সেই সময়ের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, হল দখল, শাটল ট্রেনের বগি দখল, গ্রুপিং বা হলের রাজনীতি, একই সঙ্গে ক্যাম্পাস প্রেম উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। চেষ্টা করেছি ঐতিহাসিক সত্যের কাছাকাছি থেকে লিখতে। আমার দিনলিপি তো ছিলই, এ ছাড়া সহযোগিতা নিয়েছি সেই সময়ের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে এটা যেহেতু গল্প, ইতিহাস পাঠ নয় তাই গল্প বলার ঢঙে অনেক গল্পই এসেছে। এর সঙ্গে নাম বা ঘটনা মিলে গেলে তা কাকতাল মাত্র।’
‘পর সমাচার এই যে’ প্রসঙ্গে প্রকাশক ফ্ল্যাপে বলছেন, ‘মেয়েটির নাম মেঘলা। ঝিরিঝিরি হাসিতে ভরপুর। হাসতে থাকে, ভাসতে থাকে, উড়তে থাকে, পুড়তে থাকে তার দু-এক পশলা আবেগ। সেই আবেগে ভর করে চিঠি লেখে ও। লিখে চলছে, চিরকুট, কার্ডের ভেতর বা রোল টানা কাগজে। বানান ইচ্ছে করে ভুল করছে ও, ছেলেটিকে রাগিয়ে দেবে বলে। সেই চিঠি কখনো বন্ধুতার, কখনো ভালোবাসার, কখনো প্রেমের। ওরও ইচ্ছে জাগে, কেউ ওকে লিখুক। খুব সামান্য দাবি, চিঠি দিও। পথ চেয়ে আছে, ফিরতি চিঠির। মাঝে মাঝে করুণ আবদার, কিছুই লেখার নেই, তবু লিখো। এই জীবনে মেয়েটির সেই আবদার কি পূরণ হবে? ওর হাতে কি পৌঁছাবে অক্ষরের পাড় বোনা চিঠি। সে কি কখনো পাবে কাঙ্ক্ষিত চিঠি? পর সমাচার এই যে, কী বলে?’ মেঘলা নামের মেয়েটির সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে কি না জানতে হলে পড়তে হবে পুরো উপন্যাস।

ফিচার ডেস্ক