ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছেন বাবা। আজ সোমবার সকালে তিনি এ মামলা করেছেন বলে এনটিভি অনলাইনকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাকিয়া নুসরাত।
জাকিয়া নুসরাত বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলছি। পরে মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো যাবে।’
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাহান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আসামিরা দ্রুতই গ্রেপ্তার হবে। তখন আসামিদের নামপরিচয় জানা যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার পথে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতেলে চিকিৎসাধীন আছেন।
ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা জানান, গতকাল ক্লাস শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে শ্যাওড়ায় এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। ভুল করে এর আগের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নেমে পড়েন তিনি। ওই সময় ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁর মুখ চেপে ধরে। এরপর তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরে তাঁকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই ছাত্রীকে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয় বলেও জানান তাঁরা।
পরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নিজেই শ্যাওড়ায় তাঁর বান্ধবীর বাসায় চলে যান। সেখান থেকে আরো সহপাঠীদের জানানোর পর তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল খান জানান, ঢাবি ছাত্রীকে রাতেই হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে দেখতে আজ বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। এরপর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা খুবই মর্মাহত। এটি চরম দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সে বসে আছে, তার সঙ্গে কথা বলেছি। তার মনোবল শক্ত ও ভালো আছে। ঢাবি কর্তৃপক্ষই এখন তার অভিভাবক। তার পরিবারের সদস্যরাও তার সঙ্গে আছে।’
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, পুলিশ তৎপর আছে। তারা হাসপাতাল থেকেই মামলা নিয়েছে। বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশকে অনুরোধ করেছি নরপিশাচকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য। এখন মূলত আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে তাকে সাপোর্ট দিয়ে মানসিকভাবে সামর্থ্য করে তোলা। ঢাবি কর্তৃপক্ষ তাকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।
ঢাবি ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ছাত্রীর সব ধরনের চিকিৎসা চলছে। তাঁর মেন্টালি ট্রমা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরে কিছু আঘাত রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফরেনসিক বিভাগ, নাক-কান-গলা বিভাগ, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। বোর্ডের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা চলবে। আশা করি তিনি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক